ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুন্দরবনে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আটক

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আটক। ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জাম ও ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামালসহ কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে বাহিনীটির একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পাওয়া যায় যে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করা হয়। এ সময় ৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি টেলিস্কোপ, একটি সোলার প্যানেল, একটি ব্যাটারি, একটি ওয়াকিটকি চার্জার, শিংসহ একটি হরিণের মাথা, তিন কার্টন সিগারেট, দুই বস্তা চাল এবং একটি কাঠের বোট জব্দ করা হয়। পাশাপাশি করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদারকে (৪৫) আটক করা হয়। এ সময় বাহিনীটির ব্যবহৃত একটি আস্তানাও ধ্বংস করা হয়।

পরবর্তীতে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও পুলিশের সমন্বয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলার পি.সি. বাড়ইখালি এলাকায় তার বাড়িতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত আরও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি, সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামতসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের চলমান দস্যু দমন অভিযানের ফলে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও কোস্ট গার্ডের দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।