ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

পরিবেশ সুরক্ষায় ১ লাখ গাছ লাগানোর উদ্যোগ মাস্তুল ফাউন্ডেশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মানবিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ নির্মাণই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

এই কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, এতিমখানা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উপকূলীয় এলাকা এবং পরিবেশঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে রোপণ ও বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি চারা রোপণের পর সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন মনে করে, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশগত উদ্যোগ নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও একটি কার্যকর মাধ্যম। এ কর্মসূচির মাধ্যমে নার্সারি, চারা উৎপাদন, রোপণ ও পরিচর্যার কাজে স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করা হবে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, যেখানে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা ও তরুণ সমাজ সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবে। একটি গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, “আমাদের সকল কাজের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মানবসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে আমরা ইবাদতের অংশ হিসেবেই দেখি। জলবায়ু পরিবর্তন আজ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এটি মোকাবিলায় সামাজিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। আমাদের ১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা। সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।”

সংস্থাটির চিফ অপারেটিং অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “একটি গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় নার্সারি, চারা উৎপাদক, শ্রমজীবী মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় তাদের স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনকে এই সবুজ উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।