ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

দেশে বসবে ২ হাজার সৌরচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ: কৃষিমন্ত্রী

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি : সংগৃহীত

কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো এবং উৎপাদনকারীদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় মানসম্মত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস’ বিষয়ক নীতিনির্ধারণী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

তিনি জানান, অনেক সময় পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। বিশেষ করে মৌসুমে সবজি ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্যের সরবরাহ বেড়ে গেলে বাজারদর কমে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের কাছাকাছি পর্যায়ে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ ১৫ থেকে ২০ জন কৃষকের সমন্বয়ে গঠিত সমবায়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সৌরশক্তিনির্ভর এসব সংরক্ষণাগারের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই হাজার ইউনিট স্থাপন করা গেলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি সুবিধা পাবেন।

কৃষি উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় আনতে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠলে কৃষকরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন করতে পারবেন এবং ভোক্তারাও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল মূল্যে পণ্য পাবেন।

আমিন উর রশিদ জানান, পেঁয়াজ, পেঁয়াজের বীজ এবং আদা উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য সরকার কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বা বন্ধ হতে পারে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

মাটির উর্বরতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণ ও পিএইচ মাত্রা উন্নয়নের মাধ্যমে সার ব্যবহারের প্রয়োজন কমানো সম্ভব হবে, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া কৃষিতে জ্বালানি ব্যয় কমাতে সৌরশক্তিনির্ভর সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেচযন্ত্রকে সৌরচালিত প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে।

সভায় তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষি খাতে সরকারি বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গবেষণা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মানসুর আহমেদ ও গবেষণা বিশ্লেষক জোনায়েদ সহল। এতে নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।