ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ঢাকায় শুরু হয়েছে ২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ‘জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ’

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৫:০২ পিএম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ছবি- সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলোর জবাবদিহিতা, ন্যায্যতা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তৃতীয় জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ-২০২৫।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী এই সমাবেশের উদ্বোধন করা হয়।

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)–এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সরকারি প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আন্দোলনের কর্মী, গবেষক এবং জলবায়ু-ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা জলবায়ু বিষয়ে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের দায় খুবই কম হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের শিকার।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারির ফ্রন্টলাইন দেশ। অথচ গ্লোবাল নর্থের দেরি ও গড়িমসির কারণে দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। আমরা তাদের কাছে ঋণী নই- বরং তারা আমাদের কাছে ঋণী।’

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে আর কেবল প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু ন্যায্যতা মানে ন্যায়, টিকে থাকা ও জবাবদিহি।’ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নারী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ওপর জোর দেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। সঞ্চালনা করেন ধরা-এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ। ছবি- সংগৃহীত

শরীফ জামিল বলেন, বাংলাদেশের টিকে থাকার প্রশ্নে জলবায়ু ন্যায্যতা কোনো স্লোগান নয়, এটি অস্তিত্বের প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, নিজেদের ঘর থেকে ন্যায্যতা নিশ্চিত না করতে পারলে বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের দাবি জোরালো হবে না।

সমাবেশে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও ধনী দেশগুলোর জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে গড়িমসির সমালোচনা করেন। এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি)-এর সমন্বয়ক লিডি ন্যাকপিল জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে আসা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য শক্তিশালী বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান জানান।

ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থ-এর প্রধান নির্বাহী আসাদ রেহমান বলেন, যে সংকট দরিদ্র দেশগুলো সৃষ্টি করেনি, তার অর্থনৈতিক দায় তাদের ওপর চাপানো অন্যায়।

তিনি বলেন, ‘ঋণের মাধ্যমে এখনো গ্লোবাল সাউথ থেকে গ্লোবাল নর্থে অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধু অন্যায় নয়, অশ্লীল।’

টারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের ডেপুটি রিজিওনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাইনান হটন বলেন, উন্নয়নের নামে দূষণ মেনে নেওয়ার সময় শেষ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তি ও ব্যাটারিনির্ভর অবকাঠামো, টেকসই ভবিষ্যতের পথ দেখাতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী দখল, অব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস নিয়েও তারা উদ্বেগ জানান। পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে অগ্রগতির অভাব এবং কপ–২৯-এর ব্যর্থতার সমালোচনা করেন তারা।

সম্মেলনের আগে এক হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি জলবায়ু কর্মী শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আগারগাঁও হয়ে সম্মেলনস্থল পর্যন্ত একটি র‍্যালিতে অংশ নেন। র‍্যালিতে বৈশ্বিক দূষণকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশের দ্বিতীয় দিন রোববার থিমেটিক সেশন, কর্মশালা ও নেটওয়ার্কিং আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়।