ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ডিজিটাল রূপান্তর রাষ্ট্রের ভিত্তি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া : ফয়েজ আহমদ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ডিজিটাল রূপান্তর কেবল অ্যাপ বা প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়; এটি রাষ্ট্রের ভিত্তি পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিল্ডিং ট্রাস্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি থ্রু ডেটা গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের আয়োজন করেছে দ্য ইনস্টিটিউট অব কষ্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ সরকার।

ফয়েজ আহমদ বলেন, দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে খণ্ডিত প্রকল্প বা অ্যাপভিত্তিক উদ্যোগে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এর কেন্দ্রে থাকা উচিত ডেটা গভর্ন্যান্স, সাইবার নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ। শক্তিশালী আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছাড়া টেকসই ডিজিটাল রূপান্তর সম্ভব নয়।

তিনি আরও জানান, দেশে একাধিক ডিজিটাল সিস্টেম থাকলেও ইন্টারঅপারেবিলিটির ঘাটতির কারণে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথাযথ ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষ সহকারী জানান, সরকার ইতোমধ্যেই সাইবার সেফটি, ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা এবং জাতীয় ডেটা গভর্ন্যান্স- এই তিনটি আইনি ভিত্তি গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে। এগুলো ভবিষ্যতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।

ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদ ডিভাইস ও সমান নেটওয়ার্ক সুবিধা ছাড়া ডিজিটাল সেবা কার্যকর হবে না। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য এটি নিশ্চিত করতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ফয়েজ আহমদ বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ডিজিটাল ডেটা ওয়ালেট চালু করা হবে, যেখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকবে। নাগরিকের সম্মতিতেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসব ডেটা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

সম্মেলনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, কার্যকর ডেটা গভর্ন্যান্স শুধু নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, আন্তঃখাত সমন্বয় এবং সুস্পষ্ট জবাবদিহির কাঠামো।

সম্মেলনে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আইন ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বলেন, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পেশাজীবী সংগঠন ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগেই আস্থাভিত্তিক ও টেকসই ডেটা গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএফএসির সভাপতি জ্যঁ বোকু, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।