সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির ভয়াবহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার (১১ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জানান, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় একযোগে ১৮ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস ও সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যা পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুধু গাইবান্ধা জেলায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া জামালপুর, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন বিশেষ সহকারী পদমর্যাদার ব্যক্তির ড্রাইভারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা ও নজরদারির ঘাটতির প্রমাণ।
ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে এবং প্রভাবশালী জালিয়াত চক্র সুবিধা পাচ্ছে। এর ফলে শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে এবং জাতির ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রয়োজনে পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


