চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম. এয়াকুব আলীর মনোনয়ন বাতিল ও আপিল নামঞ্জুরের ঘটনাকে আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত এবং সংবিধান লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনাকে তিনি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এম. এয়াকুব আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনের অজুহাতে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অথচ ওই সিআইবি প্রতিবেদনের ওপর হাইকোর্টের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ রয়েছে। সেই স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নজিরবিহীন ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় আমার মনোনয়ন বাতিল ও আপিল নামঞ্জুর করা মানে সংবিধান, বিচার বিভাগ এবং গণতন্ত্রকে একসঙ্গে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো।
এম. এয়াকুব আলী জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরপর ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে ৬ জানুয়ারি আদালত সিআইবি প্রতিবেদনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে ৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপিল করা হলেও ১৩ জানুয়ারি শুনানিতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানের মাছউদ একতরফাভাবে তার আপিল খারিজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনার যদি হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত দেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন আর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থাকে না; তা দলীয় দপ্তরে পরিণত হয়।
ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে এম. এয়াকুব আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বাস্তবে তার নামে থাকা প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঋণের অধিকাংশই নিয়মিত। বাকি অংশ বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবগত জটিলতা ও মামলাজনিত কারণে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশাধীন। সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও দায়ের করেনি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামে একটি বিশেষ দলের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে বৈধতা পেলেও তাকে টার্গেট করে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দক্ষিণ জেলা এলডিপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচন তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবার প্রশাসনের একটি অংশকে ব্যবহার করে আগেই নির্বাচনের ফল নির্ধারণের নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবে শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে যদি নির্বাচন কমিশন বিচার বিভাগের আদেশ অমান্য করে, তবে এই নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এম. এয়াকুব আলী জানান, নির্বাচন কমিশনের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করে তিনি আগামী ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে পুনরায় রিট পিটিশন দাখিল করবেন। পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।

