ছাত্রদল আয়োজিত নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (সদস্য সচিব) মাহফুজ উর রহমান লিপকন বলেছেন, আজকে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ও আমাদের নির্বাচন কমিশনের সামনে আগাম ভোট চুরির পাঁয়তারার অভিযোগে আন্দোলন করতে হচ্ছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের ব্যানারে এক আন্দোলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহফুজ উর রহমান লিপকন বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, যে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের জন্য লজ্জাজনক। যেখানে ৩০০ আসনে এখন প্রার্থীই চূড়ান্ত হয় নাই, সেখানে আগেই পোস্টাল ব্যালট পেপার বিদেশে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন এবং একটা নম্বর দিয়ে ৩-৪ হাজার পর্যন্ত ব্যালট নিজেদের দখলে রেখে জামায়াত-শিবির ভোট চুরি করার চেষ্টা করছে সোশ্যাল মিডিয়ায় অলরেডি সেটা চলে আসছে।
তিনি বলেন, ‘এই অথর্ব নির্বাচন কমিশনকে তার জবাব দিতে হবে। আর জামায়াত-শিবিরকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের সাথে ১৭ বছর ভোট চুরির ট্রেনিং নিয়ে, এখন ভোট চুরির চেষ্টা করছ, আওয়ামী লীগকে যেভাবে বিতাড়িত করে দিল্লিতে পাঠিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ, তোমাদেরও তেমনি পিন্ডিতে পাঠাবে। তোমাদের কাছে, আামাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম যেমন নিরাপদ নয়, তেমনি আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ ও নিরাপদ নয়। বাংলাদেশে কুরআন আর সুন্নাহ অনুযায়ী ইসলাম চর্চা হবে, মোনাফেকি মওদুদি ধর্ম চর্চা বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ চালাবে বাংলাদেশপন্থিরা। অন্য কোনো দেশের এজেন্টকে এ দেশ চালাতে দেওয়া হবে না, হবে না এবং হবে না।’
লিপকন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সকল নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা করার পরও কীভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার পাঁয়তারা করা হয়, এই দায় কার? নির্বাচন কমিশন কে এই দায় নিতে হবে, ইউনূস সরকারকে এই দায় নিতে হবে এবং অবিলম্বে এ ধরনের ভণ্ডামি বন্ধ করতে হবে। নইলে ছাত্রদল জানে কীভাবে সচ্ছতা, সাম্যতা নিশ্চিত করতে এবং ভণ্ডামি বন্ধ করতে হয়। স্বৈরাচার হাসিনা তার সব চেয়ে বড় দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) থেকে তিন দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নির্বাচন কমিশনের সামনে আন্দোলন করছে।
দাবিগুলো হলো : পোস্টাল ব্যালট-সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে। বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তিনবার নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন