পার্লামেন্টের বাহিরে জামায়াত ও এনসিপির সভা থেকে ম্যাচিউরড-দেশপ্রেম নিয়ে যেসব বিষয় উঠে আসা দরকার, তা আসছে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, পার্লামেন্টে বক্তব্যটা দায়িত্বশীল আকারে দেওয়া দরকার। সেটা প্রত্যেক সংসদ সদস্যই গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। দেশের প্রয়োজনে এবং জনসাধারণের প্রয়োজনে আপনার বক্তব্যটা দিতে হবে। প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলকে পরামর্শ আকারে কিছু কথা বলেছি। এখন দ্বিতীয় অধিবেশনে তারা বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সভা করেন। ম্যাচিউরড ও দেশপ্রেম নিয়ে যে কথাগুলো তুলে ধরা দরকার, তুলে আনা প্রয়োজন, খুব একটা আশাবাদী হতে পারছি না।
রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুরের নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জেলা আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির রাজনীতি। এরা আমাদের কী দিতে পারবে, কী দিচ্ছে, কী আমরা আশা করতে পারি? এতটুকু বুঝ-জ্ঞান নবীন এবং প্রবীণদের মাঝে বুঝতে বাকি নেই। রাজনীতির সঙ্গে দেশপ্রেম এবং দেশের সঙ্গে, সমাজের সঙ্গে এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে আমাদের নিজের কিছু করণীয়, কিছু চিন্তা এবং এটা বাস্তবায়নযোগ্য করে দেওয়াই আমরা লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। এখান থেকে আমার সেবার কথা আসবে, সম্মানের কথা আসবে, শ্রদ্ধার কথা আসবে এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার কথাও আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। এই বাংলাদেশে আমাদের পাশাপাশি অনেক রাজনৈতিক দলকে আপনারা দেখছেন। ১৭ বছরতো আওয়ামী লীগের শাসন দেখে এমন অভ্যস্ত হয়েছেন, এখন আর তাদের নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আমার কথায় যেন কেউ আহত না হন, মনে কষ্ট না পান, নেতাকর্মীদের আমরা বারবার তা স্মরণ করিয়ে দিই। আওয়ামী লীগ, ফ্যাসিস্ট যেভাবে বিদায় নিয়েছে, ১৭ বছর তাদের যেভাবে ধারাবাহিকতা ছিল। চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে হোক, সামাজিকভাবে যেকোনো প্রোগ্রামে হোক, তাদেরকে স্মরণ করে যদি একই পথে হাটি মানুষ কিন্তু আমাদেরকে কখনো বিশ্বাসের জায়গায় রাখবে না এবং জবাবদিহিতা করার ক্ষেত্রে আমরা পিছপা হয়ে যাবো। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমরা মনে করছি যুদ্ধ করতে করতে ব্যর্থ হচ্ছি, আর কত নিজেকে বিলিয়ে দিব? কিন্তু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক পরাজিত হতে পারেন না, পিছপা হতে পারেন না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের ও নবীন আইনজীবী পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফেরদাউস মানিকের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান প্রমুখ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন