ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন কারাগারে থাকা আ.লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে বন্দি ক্ষমতাচ্যুত আ.লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও সে সময়ের উচ্চপদস্থ আমলারা এবার একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগার সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা মামলার আসামি হিসেবে প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাকে বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের ঈদ উদযাপন হবে কারাগারের ভিতরে।

কারাগারে থাকা উল্লেখযোগ্য সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা হলেন: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর

ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেকেই বন্দিদের পোশাক পাঠিয়েছেন। এছাড়া দুস্থ বন্দিদের জন্য কারা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঈদ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সীমিত সময়ের জন্য মোবাইলে কথা বলার এবং খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভিআইপি বন্দিরা একসাথে নামাজ আদায় করবেন। তবে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনকে পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে; নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তাকে জামাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, দেশের সব কারাগারে ঈদের জামাত ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কারা গোয়েন্দাদের নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭৩টিতে বন্দি রয়েছে। হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে প্রায় ৭৮,৫০০ বন্দি অবস্থান করছেন।

ঈদের দিনের খাবারের মেনুতে সকালে থাকবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে বিশেষ পোলাও, গরুর রেজালা, খাসি (যাদের জন্য), সেদ্ধ ডিম, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম। সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ অনুযায়ী কিছু কারাগারে সামান্য পরিবর্তন বা অতিরিক্ত কোমল পানীয় সরবরাহ করা যেতে পারে। স্বজনদের রান্না করা খাবার খাওয়ার সুযোগও থাকবে।

ঈদের নামাজের পর বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে, যেখানে শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন। ঈদের পরদিন প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঈদের তিন দিনের মধ্যে কোনো এক দিনে স্বজনেরা বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন।