বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের জন্য রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি ছাদ খোলা বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাসটির তত্ত্বাবধানে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তারেক রহমান ও তার পরিবার এই বাসে উঠতে পারেন।
দীর্ঘদিন ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে সপরিবারে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি। তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বর্তমানে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করছে।
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান ও তার পরিবার।
বিমান সূত্র জানায়, ফ্লাইট বিজি-২০২ বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯০০ উড়োজাহাজে করে তিনি দেশে আসেন। রুটটি ছিল লন্ডন হিথ্রো–সিলেট–ঢাকা। ফ্লাইটে উচ্চপদস্থ যাত্রী থাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ও পরিচালন সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়। তারেক রহমানের জন্য বিশেষভাবে এ-১ সিট বরাদ্দ ছিল।
শিডিউল অনুযায়ী, সিলেটে প্রায় এক ঘণ্টা গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড শেষে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে বিমানটি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে অবতরণের কথা রয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে ফ্লাইটে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সালেহ শিবলী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কামাল উদ্দীন, পাশাপাশি সৈয়দ মইনউদ্দিন আহমেদ ও তাবাসসুম ফারহানা।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। কুড়িল মোড়সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের একটি বিশাল মঞ্চ।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানাবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এরপর তিনি সংবর্ধনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন।
পরে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কাকলী মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরে নিজ বাসভবনে ফিরবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির মামলায় আটক হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে একাধিক মামলার কারণে দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি তার। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরলেন তারেক রহমান।

