× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

গ্রুপ রাজনীতির অদৃশ্য জালে আটকে আছে ছাত্রদলের কমিটি

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বগুড়ার ধুনটে প্রায় ১৫ বছর আগে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির ‘সুপার ফাইভ’ দিয়েই প্রায় আট বছর সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে ২০১৮ সালে জেলা ছাত্রদল ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

এরপর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। একইভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ছাত্রদলেও কোনো কমিটি নেই। নেতৃত্ব না থাকায় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ হারিয়েছেন অনেক নেতাকর্মী।

সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচিও নিয়মিত পালন হচ্ছে না। সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নীরব স্থবিরতা। এতে বর্তমানে ছাত্রদলের ভেতরে একাধিক পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে এবং সংগঠনজুড়ে হযবরল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কয়েকজন ছাত্রনেতা গুটিকয়েক কর্মী নিয়ে বিএনপির সঙ্গে মাঠে থাকলেও সামগ্রিকভাবে সংগঠনটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। যদিও সব পক্ষেরই দাবি, দ্রুত কমিটি গঠন হলে সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরবে। এই অচল অবস্থায় সাবেক ছাত্রনেতারাও সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালে জেলা ছাত্রদল কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। ওই সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের উপস্থিতিতে একটি কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নেতারা কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণার আশ্বাস দিয়ে ফিরে যান। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত হলে এই ইউনিটের কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও থমকে যায়।

এরপর আরও চার বছর পেরিয়ে চলতি বছরের ২১ অক্টোবর উপজেলা এবং ২৩ অক্টোবর পৌর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পুনরায় কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের পর পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের কাছ থেকে আবেদনও নেওয়া হয়। তবে সম্মেলনের দুই মাস পার হলেও কোনো কমিটি ঘোষণা হয়নি। ফলে পদপ্রত্যাশীরা আশা-নিরাশার দোলাচলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

কমিটি ঘোষণা না হওয়ার কারণ নিয়ে উপজেলাজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। যেন অদৃশ্য এক জালে আটকে আছে ছাত্রদলের কমিটি। একইভাবে থমকে আছে যুবদলের কমিটিও। ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি থাকলেও সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ধুনট উপজেলায় ছাত্রদল বর্তমানে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। একদল সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অনুসারী, আরেক দল উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম তৌহিদুল আলম মামুনের অনুসারী এবং অন্য একটি অংশ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের অনুসারী। এই বিভক্তির কারণেই নতুন কমিটি গঠনে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।

এ ছাড়া বর্তমান জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন—এমন গুঞ্জনও রয়েছে। সবাই চান, শীর্ষ পদগুলো নিজ নিজ অনুসারীদের হাতে থাকুক। মূলত এই সমন্বয়হীনতাই কমিটি না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাস্তবতা হলো, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বলছেন, কালক্ষেপণ না করে সমন্বয়ের মাধ্যমেই দ্রুত কমিটি ঘোষণা করা উচিত।

ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছয় থেকে সাতজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। প্রথমদিকে কমিটি গঠনে তৎপরতা দেখা গেলেও পরে অজানা কারণে বিষয়টি থমকে যায়। দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা না হলে সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় সংগঠনের ভেতরে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। দ্রুত নতুন কমিটি গঠন হলে ছাত্রনেতারা উদ্যম নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

ছাত্রদলের আরেক সাবেক নেতা বলেন, কমিটি ঝুলে থাকায় সংগঠনের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। গ্রুপিংয়ের কারণে কোনো দলীয় কর্মসূচিও পালন করা যাচ্ছে না। গ্রুপ রাজনীতি নাকি অদৃশ্য কোনো শক্তির কারণে ছাত্রদলের কমিটি আটকে আছে এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। তিনি দ্রুত কমিটি গঠনের জন্য ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. আর. হাসান পলাশ বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ নিয়ে কাজ চলমান। রানিং শিক্ষার্থীদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হবে। বিগত সময়ে যারা ত্যাগী রাজনীতি করেছেন এবং দুঃসময়ে সংগঠনের পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে।

ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে একটি ক্লিন কমিটি দেওয়া হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!