সাবেক দুই জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণহত্যা ও খুনের মামলাকে ‘বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তারা শুধু ক্রিকেটার নন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় সম্পদ। আমি বিষয়টিকে প্রথমত একজন ক্রীড়াবিদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। জনগণ এবং সমাজ ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে তাদের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট করেছে। তাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা দায়ের হয়েছে, সেটি আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমার মনে হয় না তারা কাউকে নির্দেশ দিয়ে হত্যা করেছেন বা নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে এমন কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন।’
তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তিনি অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা অতিরঞ্জনের আলোকে দেখছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর কথাও বলেন।
ইশরাক হোসেন স্পষ্ট করে জানান, যদি দুর্নীতি, অর্থপাচার বা অন্য কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে তা অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনা উচিত। অর্থাৎ তিনি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও আইনগত অনুসন্ধানের পথ বন্ধ করার পক্ষে নন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কারণ, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে তার বক্তব্য ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাননি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে। অন্যদিকে সাকিব আল হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেই বিদায় নিতে চান। তার এই বক্তব্যের পর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়া উচিত নয়।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সাকিবের জাতীয় দলে খেলা তার ফর্মের ওপর নির্ভর করবে। আমি কখনোই খেলাধুলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনতে চাইনি। যে যোগ্য, সে অবশ্যই খেলবে।’
এদিকে চলমান বিশ্বকাপ শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। গুঞ্জন ছিল, ওই সিরিজে অংশ নিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবেন সাকিব। তবে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, নির্ধারিত ওই তারিখে দেশে ফেরা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে মামলার প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা—এই তিন ইস্যুকে ঘিরে সাকিব-মাশরাফি প্রসঙ্গ এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।


