চট্টগ্রাম বিভাগে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হাতিয়া আসনের বিএনপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম। চট্টগ্রামের রাজনীতি ছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তার মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ও নেতৃত্ব তাকে দলীয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
সম্প্রতি শামীমের স্ত্রী শিরিন আক্তার আইভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। যা স্থানীয় জনমনে শামীমের প্রতি নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
পোস্টে শিরিন আইভি উল্লেখ করেন, আলহামদুলিল্লাহ! দিন বদলে গেছে! বদলাবে জানতাম। এখন যারা অনেকেই সেসময় প্রকাশ্যে বিএনপি করেননি, মিটিং-মিছিল, মামলা-হামলার শিকার হননি, তারাও আজ সক্রিয় বিএনপির নেতাকর্মী। দুঃসময়ে লিখতে পেরেছিলাম, দলের জন্য, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য। এটা আমার নিজের জন্য, নিজের মুগ্ধতা। আমার স্বামী সেসময় এমন কোনো দিন কেউ দেখাতে পারবে না, দলের জন্য কাজ করেনি!
তিনি আরও লিখেন, করোনাকালের কিছুদিন ছাড়া তার স্বামী সব সময় দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন। পরিবারের বিষয়গুলো তখন তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দলের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি সবচেয়ে বড় ছিল।
শিরিন আইভি স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, মামলার বোঝা, ঘরছাড়া বা জেলাভোগের সময় তার সাহস ও ধৈর্যই তাকে শক্তি দিয়েছিল।
তিনি বলেন, রাত দুটো, আড়াইটায় সাহস নিয়ে পুলিশদের মোকাবিলা করা, সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্য ছাদে বা নিচে খেলার ব্যবস্থা করা—এগুলোই তার অহংকার। রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে নিজের সাহসকে তিনি আল্লাহর দেওয়া অলংকার মনে করতেন।
শিরিন আইভি আরও লিখেন, বিএনপির সরকার গঠনের পথে এবং সুসময়ে বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি তাকে বারবার মন খারাপের অনুভূতি দেয়, তবে তার পরিবারের পাশে থাকা এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের স্মৃতি তাকে শক্তি জোগায়।
এই পোস্টটি স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে এবং মাহবুবুর রহমান শামীমের রাজনৈতিক নৈতিকতা ও নিবেদিততার একটি মানবিক দিক তুলে ধরেছে।
কে এই মাহবুবুর রহমান শামীম?
মাহবুবুর রহমান শামীম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, আন্দোলনের পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণমূলক নেতৃত্ব দিয়েছেন।
গত কয়েক বছরে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ বিভাগের জেলাগুলোতে বিএনপির আন্দোলন, সমাবেশ ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
রাজনীতির শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে মাহবুবুর রহমান শামীম রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে একাধিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারও হন শামীম। ওই বছরের শেষ দিকে জামিনে মুক্তি পান। এই ঘটনা তাকে দলের মধ্যে একজন ‘ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা’ হিসেবে পরিচিতি দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাহবুবুর রহমান শামীম বিএনপির মাঠ পর্যায়ের একজন দক্ষ সংগঠক। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠ-পর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা অস্বীকার করা যায় না। হাজার হাজার তরুণ নেতা তার নেতৃত্বে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে পারেন, তাহলে বড় রাজনৈতিক দায়িত্বে তাকে দেখা যেতে পারে।

