টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। অভিযানে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, একজনকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ করাতকলের যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর রেঞ্জের চাড়ালজানি বিট ও মহিষমারা বিট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নঈম উদ্দিন। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ও মধুপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা রোকসানা জাহান, ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম, রেঞ্জার ফয়সাল হোসেনসহ বন বিভাগের বিভিন্ন বিট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহিষমারা বিটের আওতাধীন কুড়ালিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং কেওটাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একাধিক করাতকল পরিচালিত হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মোট ৬টি অবৈধ করাতকল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে লাউফুলা বাজার এলাকায় পিন্টু ও হাসান আলীর মালিকানাধীন দুটি করাতকলসহ আরও কয়েকটি এবং কেওটাই এলাকায় পরিচালিত অবৈধ করাতকলগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে কেওটাই এলাকার মো. লিটন মিয়া অবৈধ করাতকল পরিচালনার দায় স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এ সময় করাতকল পরিচালনায় ব্যবহৃত ৫টি জেনারেটরচালিত ইঞ্জিন, করাতের চেইন, হুইল, প্লেটসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম বলেন, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ করাতকল পরিচালনার মাধ্যমে বনজ সম্পদ পাচার ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম রোধে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

