ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি এনসিপির

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
এনসিপির লোগো। ছবি- সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, গত ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। ধারাবাহিক এসব অনিয়মে চাকরি পরীক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি করেছে দলটি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরি ব্যবস্থায় বৈষম্য, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, চাকরি পরীক্ষায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।

এনসিপির অভিযোগ, গুণগত সংস্কারের পরিবর্তে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননাকর।

দলটি দাবি জানায়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করতে হবে; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ বন্ধ রাখতে হবে; প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে; এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর অবহেলা প্রদর্শন করে, তবে এনসিপি চাকরি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাঠে নামবে এবং তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।