শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভেঙে যাবে কি না, এ বিষয়টি নিয়ে জনমনে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সাধারণভাবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভঙ্গ হয় না। তবে রক্তের পরিমাণ এবং রক্ত বের হওয়ার কারণের ওপর ভিত্তি করে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে।
১. আঘাতজনিত বা স্বাভাবিক রক্তপাত
যদি শরীরের কোনো স্থান কেটে গিয়ে বা ফেটে গিয়ে রক্ত বের হয় (যেমন: হাত কাটা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা দাঁত তোলা), তবে তাতে রোজা ভাঙবে না। এমনকি রক্ত যদি বেশি পরিমাণেও বের হয়, তবুও রোজা শুদ্ধ থাকবে।
২. পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া
ডাক্তারি পরীক্ষার (Blood Test) জন্য সিরিঞ্জের মাধ্যমে সামান্য রক্ত দিলে রোজা ভাঙবে না। তবে যদি এত বেশি পরিমাণ রক্ত দেওয়া হয় যার ফলে রোজাদার ব্যক্তি প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েন এবং রোজা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।
৩. কাপিং বা হিজামা
হিজামা বা শিঙা লাগানোর বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও আধুনিক ফতোয়া অনুযায়ী, এতে রোজা ভাঙে না। তবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে রোজার অবস্থায় এটি না করাই ভালো।
৪. নারীদের বিশেষ ক্ষেত্র
নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক (পিরিয়ড) বা সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ শুরু হলে রোজা ভেঙে যায়। এই রক্তক্ষরণ শুরু হওয়া মাত্রই রোজা বাতিল হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
রক্ত যদি মুখ দিয়ে বের হয় এবং তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় অথবা থুতুর সমান হয় এবং তা গলার ভেতর চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্বেচ্ছায় বমি করার ফলে যদি রক্ত আসে, তবে রোজা ভেঙে যাবে।
দুর্ঘটনাবশত বা চিকিৎসার প্রয়োজনে শরীর থেকে রক্ত বের হলে আপনার রোজা নষ্ট হবে না। আপনি নিশ্চিন্তে রোজা পূর্ণ করতে পারেন।


