রোজাদারকে ইফতার করানো ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সওয়াব ও বরকতময় একটি কাজ। এটি সামাজিক ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। রমজান মাস ইবাদত, সংযম এবং ত্যাগের মাস। এই মাসে মুমিন মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সারাদিন না খেয়ে রোজা রাখেন। দিনের শেষে এই রোজাদারদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া বা ইফতার করানোর বিষয়টি ইসলামে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার এবং সওয়াবের কাজ হিসেবে স্বীকৃত।
২. ইফতার করানোর ফজিলত (হাদিসের আলোকে)
নবী করীম (সা.) রোজাদারকে ইফতার করানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে এর বহুমুখী প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে:
পূর্ণ সওয়াব লাভ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার জন্য সেই রোজাদারের সমান সওয়াব হবে; তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।” (সুনানে তিরমিজি)
গুনাহ মাফ ও মুক্তি: ইফতার করানোর মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হয় এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সামান্য দানেও পূর্ণ নেকি: সাহাবায়ে কেরাম যখন জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সবার তো ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই।” তখন নবীজি (সা.) বলেন, এই সওয়াব সেই ব্যক্তিও পাবে যে একটি খেজুর, এক ঢোক পানি বা সামান্য দুধ দিয়েও কাউকে ইফতার করাবে।
৩. সামাজিক ও আত্মিক গুরুত্ব
ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। রোজাদারকে ইফতার করানোর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক লক্ষ্য রয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে ইফতার করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। অনেক দরিদ্র মানুষ সারা দিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবারের অভাব বোধ করেন। ইফতার করানোর মাধ্যমে তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ পায়। নিজের উপার্জিত খাবার অন্যকে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের মন থেকে কৃপণতা ও অহংকার দূর হয়।
৪. ইফতার করানোর শিষ্টাচার
ইফতার করানোর ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন:
রিয়া বা লোক দেখানো মনোভাব ত্যাগ করা: কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই খাওয়াতে হবে।
হালাল উপার্জন: ইফতারের খাবার অবশ্যই হালাল উপার্জনের হতে হবে।
অপচয় রোধ: অনেক সময় ইফতার মাহফিলের নামে প্রচুর খাবার অপচয় করা হয়, যা ইসলাম সমর্থন করে না।
পরিশেষে বলা যায়, রোজাদারকে ইফতার করানো শুধু একটি মানবিক কাজই নয়, এটি একটি বিশাল ইবাদত। সামান্য পানি বা একটি খেজুর দিয়ে হলেও এই মহান কাজে অংশ নেওয়া প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এর মাধ্যমে যেমন ব্যক্তিগত আমলনামা সমৃদ্ধ হয়, তেমনি সমাজে তৈরি হয় পারস্পরিক ভালোবাসা।


