ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রমজানে কোরআনুল কারিমের মাহাত্ম্য

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
রমজানে কোরআনে তিলাওয়াতের বিশেষ মাহাত্ম্য। ছবি : সংগৃহীত

রমজান মাস ও পবিত্র কোরআন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মহান আল্লাহতায়ালা এই বরকতময় মাসকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ বাণী নাজিলের জন্য মনোনীত করেছেন। তাই রমজানে কিয়ামুল লাইল বা তারাবির পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত।

রমজান মাস হলো কোরআনের বসন্তকাল। মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে ইমানের যে চারাগাছ থাকে, কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে রমজানে তা পূর্ণতা পায়। এই ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত বহুমুখী।

১. কোরআন নাজিলের মাস
রমজানের সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো এই মাসেই কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন:

‘রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)

এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, রমজানের সাথে কোরআনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে কোরআন নাজিল হওয়া এই মাসেরই বিশেষত্ব।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.) ও জিবরাঈল (আ.)-এর আমল
হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, রমজানের প্রতি রাতে ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) নবী করিম (সা.)-এর কাছে আসতেন এবং তারা একে অপরকে কোরআন শোনাতেন (যাকে পরিভাষায় ‘দাওর’ বলা হয়)।

শিক্ষা : আল্লাহর রাসূল (সা.) নিজে রমজানে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি কোরআন চর্চা করতেন, যা আমাদের জন্য সুন্নাহ।

৩. তিলাওয়াতের বিশেষ সওয়াব
এমনিতেই কোরআনের প্রতিটি হরফ পাঠ করলে ১০টি নেকি পাওয়া যায়। রমজানে এই সওয়াবের মাত্রা বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।

প্রতিটি আমলের সওয়াব রমজানে ৭০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

কোরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য এই মাসটি হলো আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের শ্রেষ্ঠ সময়।

৪. কিয়ামতের দিন সুপারিশ
রোজা ও কোরআন উভয়ই কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘রোজা বলবে, হে রব! আমি তাকে দিনে পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কোরআন বলবে, হে রব! আমি তাকে রাতে ঘুমানো থেকে বিরত রেখেছি (তিলাওয়াতের কারণে), তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

৫. আত্মিক প্রশান্তি ও হেদায়েত
রমজানে শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়, ফলে মানুষের মন নরম থাকে। এই সময় গভীর মনোযোগ দিয়ে অর্থসহ কোরআন তিলাওয়াত করলে অন্তরে আল্লাহর ভয় বা ‘তাকওয়া’ সৃষ্টি হয়, যা রোজার মূল উদ্দেশ্য।

রমজানে কোরআন চর্চার কিছু পরামর্শ:
খতমের চেয়ে গুরুত্ব (Quality over Quantity): কেবল দ্রুত পড়ে শেষ করার চেয়ে সহিহ-শুদ্ধভাবে এবং অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করা উত্তম।

নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ : ফজর বা সেহরির পর এবং তারাবির আগে বা পরে কোরআন তিলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা যেতে পারে।

পারিবারিক চর্চা : পরিবারের সবাই মিলে প্রতিদিন অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় কোরআন পাঠ বা আলোচনার আয়োজন করা।

অর্থ ও তাফসির পড়া : অন্তত প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা করে হলেও কোরআনের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পড়ার অভ্যাস করা।

রমজান মাসে কোরআন তিলাওয়াত কেবল একটি প্রথা নয়, বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের শক্তিশালী মাধ্যম। যে ব্যক্তি রমজান পেল অথচ কোরআনের সাথে নিজের সম্পর্ক মজবুত করল না, সে প্রকৃত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। তাই আসুন, এই রমজানকে আমরা কোরআনের আলোয় আলোকিত করি।