দেশের ক্রিকেটে এখন খেলার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঠের বাইরের বিতর্ক। বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির (সাবেক) চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল দেশের ক্রিকেট।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ক্রিকেটারদের প্রতিবাদের মুখে বিপিএলের ম্যাচ পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হয়েছিল। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শর্তসাপেক্ষে ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরলেও মূল অভিযুক্ত নাজমুল ইসলাম এখন ‘লাপাত্তা’।
বিশ্বকাপ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। সেই প্রেক্ষিতে তামিমকে সরাসরি ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দেন নাজমুল ইসলাম। শুধু তাই নয়, পরে নিজের অবস্থানের সপক্ষে আরও কিছু বিতর্কিত যুক্তি দেন তিনি। একজন বোর্ড পরিচালকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসার পর ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নাজমুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠিয়েছে বিসিবি। তাকে জবাব দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান জানিয়েছেন, নাজমুল ইসলামকে ইতোমত্যেই অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, শোকজের সময়সীমা শেষ হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি দুপুরে। এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে বিষয়টি সরাসরি ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানো হবে।
সবচেয়ে নাটকীয় মোড় নিয়েছে নাজমুলের অবস্থান নিয়ে। বিসিবি তাকে খুঁজে পাচ্ছে না! সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখার রহমান বলেন, ‘আমরা সারা দিন চেষ্টা করেও উনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমরা চেয়েছিলাম উনাকে আজ সামনে আনতে, কিন্তু উনি ধরা দিচ্ছেন না।’
নাজমুল যদি শোকজের জবাব না দিয়ে আত্মগোপনে থাকেন, তবে ফলাফল কী হবে? এ প্রসঙ্গে ইফতেখার রহমানের সাফ জবাব— আদালতে মামলা হলে হাজিরা না দিলে যা হয়, এখানেও তাই হবে। জবাব না দিলে তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন