বাংলাদেশে নির্বাচন আসা মানেই রাজপথের মিছিল-স্লোগানের পাশাপাশি গ্যালারির তারকাদের সরব উপস্থিতি। বিশেষ করে গত এক দশকে দেশের রাজনীতির মাঠে সবচেয়ে বড় ‘গ্ল্যামার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।
ব্যাটে-বলে মাঠ কাঁপানো এই তারকাদের কেন রাজনৈতিক দলগুলো টার্গেট করে —তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।
কেন টার্গেট করা হয় ক্রিকেটারদের? রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ক্রিকেটাররা হলো ‘রেডিমেড ভোট ব্যাংক’। এর পেছনে মূলত কিছু বড় কারণ কাজ করে।
১. প্রশ্নাতীত জনপ্রিয়তা: একজন নেতার জনপ্রিয়তা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, কিন্তু একজন ক্রিকেটারের ভক্ত থাকে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। তাদের ক্লিন ইমেজ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মনে খুব সহজে জায়গা করে নেওয়া যায়।
২. তরুণ প্রজন্মের আইকন: দেশে মোট ভোটারের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। এই বড় অংশটিকে প্রভাবিত করতে সাকিব- তামিম-মাশরাফিদের চেয়ে বড় কোনো বিজ্ঞাপন আর হতে পারে না।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া পাওয়ার: একজন তারকার একটি ফেসবুক পোস্ট বা ভিডিও বার্তা নিমিষেই কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, যা কোনো বড় জনসভা করেও সবসময় সম্ভব হয় না।
সৌম্য সরকার, সাব্বির, রনি তালুকদারসহ অনেক তরুণ ক্রিকেটারদেরও বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট চাইতে সামনের কাতারে দেখা গেছে।
গত কয়েকদিন আগেও বিএনপির পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গিয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে।
বিগত সরকারগুলোর আমলে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে আসার পথটি আরও সুগম হয়। মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসান তারা দুজনই খেলার মাঠে সক্রিয় থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অপরদিকে, মফস্বল বা গ্রাম বাংলার মানুষ তাদের প্রিয় খেলোয়াড়কে চোখের সামনে দেখলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বিশ্বাস করেন, দেশের জন্য যারা জানপ্রাণ দিয়ে খেলেন, তারা ভুল পথে ডাক দেবেন না।
এই ‘সরল বিশ্বাস’-কেই পুঁজি করে দলগুলো ক্রিকেটারদের মাইক হাতে মঞ্চে তুলে দেয়। ক্রিকেটাররা যখন বলেন, ‘আপনারা আমাকে ভালোবাসলে এই মার্কায় ভোট দিন’, তখন সেই আবেগ ভোটের বাক্সে গিয়ে পড়ে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন