বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দীর্ঘদিনের নিরবতা ভেঙে নিজের ক্যারিয়ারের একাধিক অপ্রিয় সত্য ও বঞ্চনার কথা প্রকাশ করেছেন। ‘সিম্পলি সাঈদ’ নামক একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দলের স্বার্থে নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে তিনি যতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তেমনটা অন্য কেউ করেনি। একইসঙ্গে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে মিরপুর স্টেডিয়ামে তাকে অনুশীলনে বাধা দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এনেছেন এই সাবেক অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
সাক্ষাৎকারে মাহমুদুল্লাহ রিযাদ বলেন, আমি সবসময় শান্ত থাকতাম। মাশরাফি ভাই এসে যখন বলতেন আজ চারে খেলো বা কাল ছয়ে, আমি কিছু না বলেই মেনে নিতাম। আলহামদুলিল্লাহ, দলের ভালোর জন্য আমি যতটা স্যাক্রিফাইস করেছি, আমার মনে হয় না আর কোনো ক্রিকেটার তেমনটা করেছে। তবুও আমি কখনো কোনো অভিযোগ করিনি।”
২০২৩ বিশ্বকাপের আগে দল থেকে বাদ পড়ার সময়কার এক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রিয়াদ বলেন, আমি তখন বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়। একদিন মিরপুরে অনুশীলনের জন্য ইনডোর বা একাডেমি মাঠে একটি উইকেট চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়—উপর মহল থেকে নির্দেশ আছে, আমাকে সেখানে ব্যাটিং করতে দেওয়া হবে না।
এই কথা শোনার পর আমি কারো সাথে কোনো তর্ক না করে মাথা নিচু করে সেখান থেকে চলে আসি।
রিয়াদ আরও বলেন, সেই ঘটনার পর তিনি অনেকটা ‘চোরের মতো’ আড়ালে অনুশীলন করতেন। জাতীয় দল যখন মাঠে থাকতো, তখন তিনি আসতেন না। আগে থেকে খবর নিতেন কখন দল প্র্যাকটিস শেষ করবে, এরপর নিভৃতে নিজের কাজটুকু করে চলে যেতেন।
২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর সেই ১ রানের হারকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ও ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করে মাহমুদুল্লাহ বলেন, সেই ম্যাচ হারার পর আমরা মাঠেই কেঁদেছি, হোটেলে ফিরেও আমি আর মুশফিক দীর্ঘক্ষণ কেঁদেছি। শেষ মুহূর্তে বাউন্ডারি মারার চিন্তা করাটা ছিল চরম বোকামি। সেই ম্যাচ আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই টেনে নিতে হয়।
টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিজের নাটকীয় অবসর নিয়েও মুখ খুলেছেন রিযাদ। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে যাওয়ার আগেই স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন এটিই তার শেষ টেস্ট। দেড় বছর লাল বলের ক্রিকেটে ব্রাত্য থাকার পর সুযোগ পেয়েই ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেন এবং মাঠ থেকেই বিদায় নেন।
যদিও এই হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্তে তৎকালীন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, তবে রিয়াদ জানান নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতেই তিনি সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন