মেক্সিকো সিটিতে বসবাসকারী ফুটবল ভক্ত জনাথন জামোরা ছোটবেলা থেকে বিশ্বকাপের প্রেমে পড়েছেন। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সময় সাত বছর বয়সে তিনি আজও স্মরণ করেন ডিয়েগো মারাদোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘সেঞ্চুরি গোল’। সেই সময় তিনি পিতার সঙ্গে আজটেকা স্টেডিয়ামে খেলা দেখেছিলেন।
২০২৬ সালে বিশ্বকাপ মেক্সিকোতে ফেরায় জামোরা আবারও স্টেডিয়ামে খেলার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু টিকিট পাওয়া যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফার ওয়েবসাইটে তিনি তিনবার লটারিতে অংশ নিয়েও সফল হননি।
তিনি বলেন, এখন মনে হচ্ছে যেন মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ হচ্ছে না।
২০২৬ বিশ্বকাপ প্রথমবার তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হবে— মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। মেক্সিকোতে হবে ১৩টি ম্যাচ, কিন্তু মোট ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৩টি হবে যুক্তরাষ্ট্রে। তাই অনেক মেক্সিকান ভক্তই নিজেদের ‘বঞ্চিত’ মনে করছেন।
টিকিটের দামও অনেক বেশি। নিজেদের ম্যাচে সাধারণ আসনের দাম ১,২৯০ থেকে ১,৮২৫ মার্কিন ডলার, হসপিটালিটি প্যাকেজের দাম প্রায় ১০,০০০ ডলার। মেক্সিকোর গড় আয়ের সঙ্গে তুলনা করলে এটি অনেকটাই অসাধ্য।
লেখক ও সাংবাদিক রদ্রিগো মারকেজ টিজানো বলেন, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামের বাতাসে আনন্দ আর উত্তেজনার সুবাস ছিল। আজ তা নেই। টিকিট পেতে মানুষ ভার্চুয়াল লাইনে দাঁড়াচ্ছে, আর ব্যবসায়ীরা তা দখল করছে।
অনেক ভক্ত যেমন জামোরা, তেমনই জর্জে গার্সিয়া। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ দেখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু টিকিট পাওয়াও সহজ নয়। তিনি বলেন, সবকিছু খুব বিভ্রান্তিকর। মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত, যাতে মানুষ হতাশ হয়ে রিসেল মার্কেটে খুঁজে দেখেন।


