এবার কি তবে বাঙালিরা সরাসরি ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে পারবে না? গুনে গুনে আর মাত্র ৩৩ দিন বাকি ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বাংলাদেশের মানুষ ঘরে বসে কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় সরাসরি খেলা দেখতে পারবেন কি না। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেনি। এমনকি উচ্চমূল্যের কারণে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবার বিশ্বকাপ সম্প্রচারের উদ্যোগও নেয়নি।
অথচ বিশ্বকাপ এলেই বাঙালিদের মধ্যে তৈরি হয় অন্যরকম উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দলের সমর্থনে চলে তর্ক-বিতর্ক, নানা আয়োজন আর খুনশুটি। এবার সেই ফুটবল বিশ্বকাপ দেখা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। কেউ কেউ এরই মধ্যে নিজের প্রিয় দল ও খেলোয়াড়কে নিয়ে পোস্ট দিতে শুরু করেছেন।
খেলা দেখা নিয়ে কেন ধোঁয়াশা
জানা গেছে, বিপুল সম্প্রচার স্বত্বমূল্য, সীমিত বিজ্ঞাপন বাজার এবং ম্যাচের প্রতিকূল সময়সূচির কারণে বিশ্বকাপ সরাসরি সম্প্রচারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সরকারি চ্যানেল বিটিভি কিংবা দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো।
তবে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি আশা ছিল বিটিভিকে ঘিরে। কারণ, ২০২২ সালেও কাতারে আয়োজিত ফিফা বিশ্বকাপ বিটিভি টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে বিশ্বকাপ দেখার অন্যতম মাধ্যম বিটিভি। এমনকি বিভিন্ন দেশি চ্যানেল সম্প্রচার স্বত্ব কিনলেও বিটিভি বিশ্বকাপ দেখিয়ে এসেছে।
বেসরকারি চ্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে টি স্পোর্টস, জিটিভি ও মাছরাঙা টেলিভিশন ইত্যাদি। এর মধ্যে গতবার ৬৪টি ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। ডিজিটাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনেছিল Toffee (টফি)।
এখনো কি আশা আছে?
‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’- এই কথার ভিত্তিতেই হয়তো এখনো কিছুটা আশা দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কারণ, এবার বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের মিডিয়া স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান (স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড)।
তবে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রচার স্বত্বের জন্য বিপুল অর্থ দাবি করেছে। মূলত এ কারণেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। দিন যত এগিয়ে আসছে, এই অনিশ্চয়তাও তত বাড়ছে। এখনো পর্যন্ত এ সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এর বড় কারণ, বাংলাদেশ সরকারও এবার বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনার বিষয়ে আগ্রহী নয়। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং আগের চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় সরকার এবার সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে আগ্রহী নয়।
মন্ত্রী বলেন, গতবার সম্প্রচার স্বত্ব কেনার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল, তার ১০ শতাংশও আদায় করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালে সরকার পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
তিনি জানান, স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড যে মিডিয়া স্বত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে টেলিভিশন, রেডিও, মোবাইল ও ইন্টারনেট—সব ধরনের সম্প্রচার অধিকারই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জানা গেছে, বিটিভি যদি সরাসরি বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে চায়, তাহলে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ট্যাক্স বাদ দিয়ে এত অর্থই বিটিভির কাছে দাবি করেছে (স্প্রিংবক প্রাইভেট লিমিটেড)। ভ্যাট-ট্যাক্স যুক্ত হলে এই অঙ্ক ২০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
শর্ত অনুযায়ী, এই অর্থের অর্ধেক ১০ মে এবং বাকি অর্ধেক ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই প্যাকেজের আওতায় রয়েছে বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সমাপনী অনুষ্ঠান।
এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচের সময়সূচিও বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য খুব একটা সুবিধাজনক নয়। ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৫২টি বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টার আগেই শেষ হবে। আর বাকি ৫২টি ম্যাচ শুরু হবে ভোর ৪টার পর।

