বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিটের আকাশছোঁয়া দামের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত কিছু টিকিটের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বুধবার এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য অল্পসংখ্যক টিকিট ৬০ ডলারে বিক্রি করা হবে।
তবে এই কম দামের টিকিট মোট টিকিটের মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। কারণ প্রতিটি ম্যাচে অংশ নেওয়া দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে ৮ শতাংশ করে টিকিট দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ টিকিট ৬০ ডলারে বিক্রির সুযোগ থাকবে। ফলে বাস্তবে প্রতিটি ম্যাচে কয়েক শ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩০০ জন দর্শকই এই দামে টিকিট পেতে পারেন।
ফিফা জানিয়েছে, কোন দর্শক এই টিকিট পাবেন, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল সংস্থা। এসব টিকিট ‘নিষ্ঠাবান সমর্থকদের’ জন্য বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ করেছে ফিফা।
তবে অধিকাংশ দর্শকের জন্য টিকিটের দাম এখনো অনেক বেশি। বেশিরভাগ ম্যাচের টিকিটের মূল্য কয়েক শ ডলার থেকে শুরু করে হাজার হাজার ডলার পর্যন্ত। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার।
এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ফুটবল সমর্থকরা। ইউরোপভিত্তিক সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিফার এই সিদ্ধান্ত খুবই সীমিত।
এফএসই বলে, কয়েক শ ভাগ্যবান দর্শক ছাড়া অধিকাংশ সমর্থককেই আগের মতোই অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের টিকিট কিনতে হবে, যা আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক বেশি।
সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, প্রতিবন্ধী দর্শকদের জন্য টিকিটের দাম ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৩৮ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
অথচ ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়ার সময় সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ২১ ডলার রাখার কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই প্রতিশ্রুতি কোথায়—এ প্রশ্ন তুলেছে তারা।
জানা গেছে, ফিফা বর্তমানে ‘ভ্যারিয়েবল প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি করছে। অর্থাৎ কোনো ম্যাচের চাহিদা বাড়লে দামও বাড়ানো হচ্ছে।
ফিফার দাবি, এতে আয় ও দর্শকসংখ্যা বাড়ে। তবে সমর্থক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই পদ্ধতিতে দামের স্বচ্ছতা নেই এবং ‘ম্যাচের আকর্ষণ’-এর মতো অস্পষ্ট বিষয় দিয়ে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া পুনর্বিক্রির ক্ষেত্রেও ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিচ্ছে। এর ফলে কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম দ্বিতীয় বাজারে লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার একটি ম্যাচের সেরা আসনের টিকিট বুধবার ১ লাখ ১ হাজার ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল।
প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেখা ক্রীড়া আসর। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখেছেন আনুমানিক ৫৭ কোটি মানুষ। তুলনায় চলতি বছরের সুপার বোল দেখেছেন প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ দর্শক।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী বছরের ১১ জুন, প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোতে।




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন