বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল পাকিস্তান। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। আজান, শান মাসুদ ও সৌদ শাকিলদের দ্রুত বিদায় করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে টাইগাররা। মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে রয়েছে সফরকারী দল।
১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। আজান ৮৫ ও আব্দুল্লাহ ফজল ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে খেলা শুরু করেন। দিনের পঞ্চম ওভারেই কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি তুলে নেন অভিষিক্ত আজান।
পাকিস্তানের ১৪তম ব্যাটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকেই শতক হাঁকানো ষষ্ঠ ব্যাটার এখন এই তরুণ। ফেরার আগে ১০৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন তিনি।
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা করেন পেসার তাসকিন আহমেদ। সেঞ্চুরিয়ান আজানকে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। আজানের বিদায়ের পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি অধিনায়ক শান মাসুদও। ৯ রান করা মাসুদকে সাদমান ইসলামের ক্যাচে পরিণত করে সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন।
মাঝের ওভারে ঘূর্ণি জাদু দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনে নামা আব্দুল্লাহ ফজল ধৈর্য ধরে খেললেও ৬০ রানের মাথায় মিরাজের বলে পরাস্ত হন। এর আগে মিডল অর্ডার ব্যাটার সৌদ শাকিল রানের খাতা খোলার আগেই মিরাজের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।
রিভিউ নিয়েও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি তিনি। ২১০ থেকে ২৩০—এই ২০ রানের ব্যবধানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ৪টি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে।
এর আগে পাকিস্তানের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ইমাম উল হককে নিয়ে ১০৬ রান যোগ করেছিলেন আজান। এরপর ফজলের সঙ্গে তার ১০৪ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হতে বসেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পাকিস্তানের সংগ্রহ ৬৮.১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান। ক্রিজে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সালমান আলী আগা (৭) এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান (২)।
বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি এবং তাসকিন আহমেদ ২টি উইকেট শিকার করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন