ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা বহাল রাখল অস্ট্রেলিয়া

শিপন আহমদ (সিডনি), অস্ট্রেলিয়া
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ ডিপার্টমেন্ট অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স এন্ড ট্রেড (ডিএফএটি) পরিচালিত সরকারি ভ্রমণ পরামর্শ পোর্টাল স্মার্টট্রাভেলার গত ৯ এপ্রিল হালনাগাদ করে ১০ এপ্রিলও বাংলাদেশের জন্য পূর্বে জারি করা ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বহাল রেখেছে।

সতর্কতা বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চলমান নাগরিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ যে কোনো সময় পূর্বসতর্কতা ছাড়াই সহিংস রূপ নিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চিটাগাং হিল ট্রাক্টস অঞ্চলের জন্য আলাদা ও আরও কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে অপহরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার বর্ডার এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

এই সতর্কতা নতুন নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ডিএফএটি বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ ‘লেভেল-৪: ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা জারি করেছিল, যেখানে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে সতর্কতা নামিয়ে বর্তমান ‘লেভেল-৩’-এ আনা হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি সপ্তাহে মিল্টন ডিকের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার উচ্চপর্যায়ের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেছে। সফরকালে দুই দেশ সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা এবং আন্তঃসংসদীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে ভ্রমণ সতর্কতা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে উচ্চপর্যায়ের সফর পরিচালনা দুইয়ের সমন্বয়ই ইঙ্গিত দেয় যে, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তবে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।