ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুদ্ধে শহীদ হতে চাওয়া ইরানিদের গণবিয়ে, অস্ত্রসহ এলেন নবদম্পতিরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে শত শত তরুণ-তরুণীকে নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এক গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বর-কনেদের সামরিক জিপে করে আনা হয়, যেগুলোতে ছিল মেশিনগান সংযুক্ত। ইরান সরকার এই উদ্যোগের আয়োজন করে।

সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জনগণের মনোবল দৃঢ় রাখার একটি প্রচারমূলক উদ্যোগ।

তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শত শত যুগল এই গণবিয়েতে অংশ নেন। এর মধ্যে ইমাম হোসেন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শতাধিক নবদম্পতির বিয়ে সম্পন্ন হয়। সরকারি সম্প্রচারে এই আয়োজনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক চাপ ও হুমকির মধ্যেও ইরানের জনগণের ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা পৌঁছে যায়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সরকারের এই কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে ‘জানফাদা’, যার অর্থ আত্মত্যাগ বা আত্মোৎসর্গ। অংশগ্রহণকারীরা দেশ রক্ষার প্রয়োজনে নিজেদের জীবন দিতেও প্রস্তুত বলে অঙ্গীকার করেছেন। দাবি করা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে তারা মানবঢাল হিসেবেও দাঁড়াতে রাজি।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। এতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতো শীর্ষ নেতারাও যুক্ত আছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর থেকেই সরকারপন্থি সমাবেশ ও দেশপ্রেমমূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য জনগণের সমর্থন আরও জোরদার করা।

ইমাম হোসেন স্কয়ারের অনুষ্ঠানে বেলুন ও আলোকসজ্জায় সাজানো মঞ্চে নবদম্পতিরা উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নেন। এক নববধূ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশ কঠিন সময় পার করছে, কিন্তু তরুণদের জীবন ও স্বপ্ন থেমে থাকতে পারে না। আরেক বর জানান, আমরা মানুষের মাঝে আশা ও শুভকামনার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এখানে এসেছি।