ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হাসপাতালে ভর্তি নেতানিয়াহু

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি- সংগৃহীত

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সোমবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, চিকিৎসার জন্যই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হিব্রু সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, চিকিৎসাটি ছিল নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা আলোচনা থাকায় ঘটনাটি নতুন করে জনমনে কৌতূহল তৈরি করেছে।

৭৬ বছর বয়সী এই নেতার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি গত কয়েক মাস ধরে ইসরাইলে ব্যাপক আলোচনার বিষয়। তার অসুস্থতা সংক্রান্ত কিছু তথ্য জনসমক্ষে পুরোপুরি প্রকাশ না করার অভিযোগও উঠেছে। এ কারণে বিরোধী মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তার সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে।

গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি সম্প্রতি প্রোস্টেটে ক্যানসারজনিত টিউমারের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন এবং সেটি সফল হয়েছে। তার দাবি, চলমান ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার সময় বিষয়টি প্রকাশ করলে তা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হতে পারত, তাই তখন বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে দাঁতের চিকিৎসার জন্যই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে তিনি কখন রোগটি শনাক্ত হয়েছিল, কতদিন চিকিৎসা নিয়েছেন কিংবা চিকিৎসা শেষ হয়েছে কি না এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করা হলেও সেগুলোকে অনেকেই অসম্পূর্ণ ও অস্পষ্ট বলে সমালোচনা করেন। এমনকি প্রকাশিত কাগজপত্রে হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা লোগোও ছিল না।

এর আগেও নেতানিয়াহুর বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তার শরীরে পেসমেকার বসানো হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়।

পেসমেকার বসানোর সময় প্রথমে বলা হয়েছিল, পানিশূন্যতার কারণে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরে হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার শরীরে একটি সাবকিউটেনিয়াস হার্ট মনিটর স্থাপন করা হয়েছিল। এরপর থেকেই তার হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকে।

যদিও চিকিৎসকেরা পরে জানান, হাসপাতালে থাকা অবস্থায় করা ইসিজি পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছিল, তবু তারা দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।