ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ৫৫

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
মিয়ানমারে বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শান রাজ্যে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রামে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। চীনের সীমান্তঘেঁষা নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে রোববার (৩১ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে বিস্ফোরণের পর গ্রামটির আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকাটি বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পদার্থ সংরক্ষণস্থলে দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে। তাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ ‘দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ’ ঘটে এবং এতে বহু গ্রামবাসী নিহত ও আহত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণে অন্তত ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ৪৬ থেকে ৫৫-এর মধ্যে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের ফলে একটি বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং পুড়ে যাওয়া গাছপালা ও ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর অনেক বাসিন্দা প্রথমে এটিকে বিমান হামলা বলে মনে করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রত্যক্ষদর্শী লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরে আমার মোবাইল ফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসতাম, তাহলে হয়তো আজ বেঁচে থাকতাম না।’

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনগুলোর একটি হলো তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। দেশটির বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের কার্যক্রমের অর্থায়নের জন্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে খনি-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা সেখানে প্রায়ই ঘটছে।