ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর আটক হওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিরোধী নেতারা স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করে আলোচনার দাবি জানালেও সন্তোষজনক সাড়া না পেয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশে গণমিছিল করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার এ ঘটনায় দায় স্বীকার করছে না এবং সংসদেও বিষয়টি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়ার দায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত।
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে দায়ী করে কংগ্রেস নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে মোদিবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় বিরোধী নেতাদের এই কর্মসূচি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন