ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জনসন বেবি পাউডারে ক্যানসার শনাক্ত, ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম
জনসন বেবি ফাউডার। ছবি- সংগৃহীত

জনসন বেবি পাউডার ব্যবহারের কারণে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভুক্তভোগীকে মোট ৪ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টের একটি জুরি এই রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, মনিকা কেন্টকে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং ডেবোরা শুল্টজ ও তার স্বামীকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কোম্পানিটিকে। জুরির মতে, জনসন অ্যান্ড জনসন বহু বছর ধরেই জানত যে তাদের ট্যালকভিত্তিক পণ্য স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু সে বিষয়ে ভোক্তাদের যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মনিকা কেন্টের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে ২০১৪ সালে এবং ডেবোরা শুল্টজের ক্ষেত্রে তা শনাক্ত হয় ২০১৮ সালে। দুজনই ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। তারা আদালতে জানান, গোসলের পর প্রায় ৪০ বছর ধরে নিয়মিত জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডার ব্যবহার করেছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাদের একাধিক বড় অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

বিচার চলাকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যান্ডি বার্চফিল্ড বলেন, ১৯৬০-এর দশক থেকেই কোম্পানিটি জানত যে ট্যালকভিত্তিক পণ্য ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষে আইনজীবী অ্যালিসন ব্রাউন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, ট্যালকের সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং বড় কোনো মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থাও এমন সম্পর্কের কথা বলেনি।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জনসন অ্যান্ড জনসনের বৈশ্বিক লিটিগেশনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস এক বিবৃতিতে জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করা হবে। তিনি বলেন, আগের মতোই এ ক্ষেত্রেও কোম্পানি শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে বলে তারা আশাবাদী।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ৬৭ হাজারের বেশি মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার বাদীরা দাবি করছেন, বেবি পাউডার ও অন্যান্য ট্যালক পণ্য ব্যবহারের কারণে তাঁরা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও কোম্পানিটি বরাবরই বলে আসছে, তাদের পণ্য নিরাপদ, এতে অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসার সৃষ্টি করে না।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ট্যালকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে কর্নস্টার্চভিত্তিক পণ্যে রূপান্তর করে জনসন অ্যান্ড জনসন। পরে দেউলিয়া আইনের আশ্রয় নিয়ে একযোগে মামলাগুলোর নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও ফেডারেল আদালত সেই উদ্যোগ তিনবার প্রত্যাখ্যান করেন।

এর আগে ট্যালক-সংক্রান্ত মামলায় জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ও পক্ষে—দুই ধরনের রায়ই এসেছে। কোনো কোনো মামলায় জুরি সর্বোচ্চ শত শত মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করলেও, কিছু রায় আপিলে কমে গেছে বা কোম্পানি পুরোপুরি জয়ী হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও মেসোথেলিওমা নামের বিরল ক্যানসার সংক্রান্ত মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের রায় দিয়েছেন আদালতিি