নতুন করে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের তিন দিন পর ১৮ কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দিয়েছে থাইল্যান্ড। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ‘সদিচ্ছার প্রতিফলন’ ও ‘আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির’ অংশ হিসেবে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) কম্বোডিয়ান সেনাদের প্রত্যর্পণ করে ব্যাংকক।
চলতি মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত ও ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর গত শনিবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল, উভয় পক্ষ বর্তমান অবস্থানে সেনা স্থির রাখবে, কোনো শক্তি বৃদ্ধি করবে না এবং সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে দ্রুত ঘরে ফেরার সুযোগ দেবে।
এই চুক্তিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যা সফল করতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিকভাবে উৎসাহ দিয়েছিল। এমনকি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একে ‘কষ্টে অর্জিত সাফল্য’ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘দ্রুত ও ন্যায্য সমাধান’ বলে প্রশংসা করেছিলেন।
কী নিয়ে বিরোধ ব্যাংকক-নমপেনের?
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে এই সীমান্ত বিরোধ শতবর্ষ পুরোনো। তবে এ বছরের শুরুতে একটি বিতর্কিত মন্দিরে কম্বোডীয় নারীদের দেশাত্মবোধক গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মে মাসে এক লড়াইয়ে কম্বোডীয় সেনার মৃত্যুর পর দুই দেশের সম্পর্ক গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
গত জুলাই ও অক্টোবরে দুই দফায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি ডিসেম্বরের শুরুতে পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়। ২০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে অন্তত ১০১ জন নিহত ও প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এর আগে গত জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।
তবে চলতি মাসের শুরুতে সীমান্তে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হলে সেই শান্তি প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। ওই সময় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছিল।



