উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে পূর্ব এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। দেশটির পশ্চিম উপকূলে একটি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার থেকে ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করেছেন সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।
বুধবার (১১ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এই খবর নিশ্চিত করে জানায় যে, মূলত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করার পাশাপাশি নৌবাহিনীর সদস্যদের দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা পরখ করতেই মঙ্গলবার এই বিশেষ মহড়া চালানো হয়েছে।
পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যেই নামফো উপকূলের কাছে ‘৫১ নম্বর চো হিয়ন’ নামক একটি রণতরী থেকে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উড্ডয়নের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় রেকর্ড তৈরি করেছে। এগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পশ্চিম সাগর বরাবর নির্ধারিত পথ ধরে প্রায় ১৬৯ মিনিট বা ১০ হাজার ১৩৮ সেকেন্ড আকাশপথে উড়ে গিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট দ্বীপের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে। উড্ডয়ন সময়ের এই দীর্ঘ রেকর্ডটি ২০২২ ও ২০২৩ সালে পরীক্ষিত ‘হাওয়াসাল’ কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতার প্রায় সমান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে থাকা আধুনিক ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম থেকে পশ্চিম দিকে দ্রুত গতিতে একে একে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে উঠে যাচ্ছে। এর আগে ৪ মার্চও একই জাহাজ থেকে আরও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের রণপ্রস্তুতি ঝালিয়ে নিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।
কিম জং উন এই পুরো কার্যক্রমটি একটি অপ্রকাশিত ও দূরবর্তী অভ্যন্তরীণ স্থান থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে এবং টেলিফোনে জাহাজের নাবিকদের সাথে সরাসরি কথা বলে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এই সামরিক পরীক্ষার সময় কিম জং উনের পাশে তাঁর কনিষ্ঠ কন্যাকেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। যদিও দেশটির গণমাধ্যম বরাবরের মতোই তাঁর নাম উল্লেখ করেনি, তবে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় তিনি বাবার সাথে বসে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে রণকৌশল পর্যবেক্ষণ করছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় কিম ও তাঁর কন্যাকে একইভাবে একসাথে দেখা গিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



