পেরুর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির কংগ্রেসের সাবেক বিচারক এবং বামপন্থি আইনপ্রণেতা হোসে মারিয়া বালকাজার। রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ইউরোপের এ দেশটিতে এক দশকের মধ্যে নবম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) চিফাগেট কেলেঙ্কারির জেরে ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হোসে হেরিকে অপসারণের একদিন পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বালকাজার।
আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তাহলে জুনে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহ্যগতভাবে জুলাইয়ের শেষের দিকে পেরুর স্বাধীনতা দিবসে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের শপথ গ্রহণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানটির মধ্য দিয়ে বালকাজারের নেতৃত্বের অবসান ঘটবে। পেরুতে বরাবরই শীর্ষ ক্ষমতা নিয়ে অস্থিরতা বিরাজ করে। দেশটির শেষ আট প্রেসিডেন্টের মধ্যে চারজনকে অভিশংসিত করা হয়েছে এবং তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন দুজন প্রেসিডেন্ট।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ছিলেন ওলান্টা হুমালা, যার দায়িত্ব ২০১৬ সালের জুলাই মাসে শেষ হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতায় বালকাজারের প্রেসিডেন্ট পদে আরোহণ তার নিজের কারণেই ঘটেছে।
ভোটের প্রাথমিক রাউন্ডে মধ্য-ডান আইনজীবী মারিয়া দেল কারমেন আলভা এবং বালকাজার যথাক্রমে ৪৩ ও ৪৬ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু তারা উভয়ই প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫৯ ভোটের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। তাই আরেক রাউন্ড ভোটের সিদ্ধান্ত হয়।
তবে বামপন্থি দল টুগেদার ফর পেরু দ্বিতীয় রাউন্ড বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১১৩টি কংগ্রেসনাল ভোটের সংখ্যার ভিত্তিতে বালকাজার শেষ পর্যন্ত জয়ী হন। তিনি পেয়েছেন ৬০টি ভোট।
চিফাগেট কেলেঙ্কারি কী?
‘চিফা’ হলো পেরুর একটি চীনা রেস্তোরাঁর নাম। এ রেস্তোঁরা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিতর্ককে চিফাগেট কেলেঙ্কারি বলা হয়। গত মাসে এই কেলেঙ্কারির শুরু।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত মাসে গভীর রাতে হুডি পরে চিফা রেস্তোরাঁয় ঢুকছেন হেরি। সেখানে তিনি চীনা ব্যবসায়ী জিহুয়া ইয়াংয়ের সঙ্গে দেখা করেন। এই ব্যবসায়ীর পেরুতে বেশ কিছু দোকান রয়েছে। এ ছাড়া একটি জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছেন।

