× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম

যেভাবে পতন হলো বুলগেরিয়া সরকারের

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম

কেন বিক্ষোভে ফুঁসে উঠল বুলগেরিয়া। ছবি- সংগৃহীত

কেন বিক্ষোভে ফুঁসে উঠল বুলগেরিয়া। ছবি- সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জেনারেশন জেডের নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভ এবার প্রথম কোনো ইউরোপীয় সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করল। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোজেন ঝেলিয়াজকভ ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি দেশটির পদত্যাগকারী একাধিক প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ সংযোজন।

দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল সরকারি দুর্নীতি ও প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ। রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন সরকার গঠনের চেষ্টা শুরু করেছেন দেশটির রাজনীতিকরা।

কেন বিক্ষোভে ফুঁসে উঠল বুলগেরিয়া?

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি খাতে কর বৃদ্ধির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই রূপ নেয় ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী গণবিক্ষোভে। রাজধানী সোফিয়াসহ সারা দেশে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

এই আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল তরুণদের, বিশেষ করে জেনারেশন জেডের।

রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় হিসেবে পরিচিত বুলগেরিয়ায় তরুণদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ বিরল ঘটনা। এর মাধ্যমে বুলগেরিয়া সেই দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো, যেখানে জেনারেশন জেড গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে—এর মধ্যে রয়েছে মাদাগাস্কার, মরক্কো ও নেপাল।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, দুর্নীতির ইস্যু সামনে থাকলেও আন্দোলনের গভীরে ছিল সরকারের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য বুলগেরিয়া আগামী ১ জানুয়ারি ইউরো মুদ্রা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নিয়ে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে এই গণবিক্ষোভের কারণে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঝেলিয়াজকভ বলেন,
‘আমাদের লক্ষ্য সমাজের প্রত্যাশার স্তরে পৌঁছানো। আমরা বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠ শুনেছি। এই মুহূর্তে জনগণ সরকারের পদত্যাগ চাইছে।’

উল্লেখ্য, তার পদত্যাগ আসে তারই মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে নির্ধারিত অনাস্থা ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে।

সামনে কী?

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। তবে বুলগেরিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ অস্থিতিশীল। গত চার বছরে দেশটিতে সাতটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনোটিই স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারেনি।

এ পরিস্থিতিতে আবার আলোচনায় এসেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বয়কো বোরিসভ। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি বুলগেরিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা রেখে আসছেন। রাষ্ট্রপতি রুমেন রাদেভ জানিয়েছেন, বৃহত্তম দল গার্বের নেতা হিসেবে বোরিসভকে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি রাদেভ নিজেও আলোচনায় রয়েছেন। ব্লুমবার্গের মতে, তিনি দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিক, যদিও প্রায়ই তার বক্তব্যে রাশিয়ান প্রভাবের অভিযোগ ওঠে। আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও সম্প্রতি তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দুর্নীতির ছায়া কাটবে?

যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বুলগেরিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রায় ৬৫ লাখ জনসংখ্যার এই বলকান দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পরও বুলগেরিয়া ধারাবাহিকভাবে ব্লকের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আসছে।

Link copied!