ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কার্বি আংলংয়ে তীব্র আন্দোলনে কারফিউ জারি, বন্ধ ইন্টারনেট

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম
ভারতের আসাম রাজ্যের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলা। ছবি- সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলা এখনো থমথমে। বহিরাগত উচ্ছেদ ও জমির অধিকার নিয়ে চলমান আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত দু’জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে একজন বাঙালি রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পশ্চিম কার্বি আংলং ও সংলগ্ন কার্বি আংলং জেলায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই গোটা পশ্চিম কার্বি আংলং জুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম কার্বি আংলং ও পার্শ্ববর্তী কার্বি আংলং জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই বহিরাগতদের উচ্ছেদ ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছে।

কার্বি জনগোষ্ঠীর দাবি, ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকায় বহিরাগতরা বেআইনিভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। এই দাবিতে গত ১৬ দিন ধরে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন আন্দোলনকারীরা।

গতকাল মঙ্গলবার অনশনরত এক কার্বি আন্দোলনকারীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই খবরের জেরেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

আসামের ডিজিপি হরমিত সিংহ জানান, ওই গ্রেপ্তারের খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। তার ভাষায়, অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই সহিংসতা শুরু হয়।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু দখলের চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয়। তখনই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করা হলে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার নেয়। আইজিপি (আইনশৃঙ্খলা) অখিলেশ সিংহ অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা ককটেল, পাথর এমনকি তির-ধনুক নিয়েও পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে কার্বি আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের উচ্ছেদের আশ্বাস বারবার দেওয়া হলেও বাস্তবে প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। কয়েক দিন আগে রাজ্যের মন্ত্রী রনজ পেগু খেরোনি এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আগামী ২৬ ডিসেম্বর কার্বি আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দেন। তবে সেই আশ্বাসের পরও মঙ্গলবার দিনভর খেরোনি এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক দোকান ও বাজারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কার্ফু ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।