ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের কালাবুরগি জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ভিন্ন বর্ণের এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোয় নিজের ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এক বাবা। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পুলিশের তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর নাম কবিতা। গত বৃহস্পতিবার সকালে মেলাকুন্ডা গ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তার বাবা শংকর কল্লুর। পরে প্রমাণ নষ্ট করতে মুখে কীটনাশক ঢেলে দেওয়া হয়, যাতে সবাই এটিকে আত্মহত্যা বলে বিশ্বাস করে।
প্রথমে গ্রামের মানুষরাও এটিকে আত্মহত্যা ভেবেছিল এবং কবিতার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেয়। কিন্তু কিছু গ্রামবাসীর মনে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম পাঠায় এবং তদন্ত শুরু করে। এরপরই নিশ্চিত হয় যে এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
কালাবুরগির পুলিশ কমিশনার শরনাপ্পা এস ডি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শংকর কল্লুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, শংকরের পাঁচ মেয়ে রয়েছে। কবিতার এই প্রেম জানাজানি হলে অন্য মেয়েদের বিয়েতে সমস্যা হবে- এমন আশঙ্কায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেও মেয়েকে প্রেম থেকে সরাতে না পেরে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
প্রতিবেশীরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। তারা বলেন, প্রথমে তারা এটিকে আত্মহত্যা ভেবেছিলেন এবং সৎকারেও অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু আসল সত্য জানার পর তারা হতবাক হয়ে গেছেন।
পুলিশ বর্তমানে শংকরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে পরিবারের অন্য কোনো সদস্য জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে।
মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে ‘অনার কিলিং’ বা সম্মান রক্ষার্থে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ভারতে সামাজিক কুসংস্কার এবং জাতিগত ভেদাভেদের কারণে প্রায়ই ঘটে থাকে।