ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব সম্প্রসারণের বিরোধিতা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউস। 

বিবৃতিতে বলা হয়, স্থিতিশীল পশ্চিম তীর ইসরায়েলকে নিরাপদ রাখবে এবং এটা এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।  

হোয়াইট হাউস থেকে এমন এক সময় এই মন্তব্য আসল, যখন ইসরায়েলের উগ্রপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অধিকৃত পশ্চিম তীরে তেল আবিবের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়ানোর একগুচ্ছ পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা।

ফলে কয়েক দশকের পুরোনো সেই নিয়ম বাতিল করা হচ্ছে, যা পশ্চিম তীরের ইহুদি নাগরিকদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে জমি কেনায় বাধা হয়ে ছিল। পশ্চিম তীরের বেশির ভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সীমিত স্বশাসন চালু আছে। ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যে ভূখণ্ডগুলো চায়, পশ্চিম তীর তার মধ্যে অন্যতম।

ইসরায়েলের নিউজ সাইটগুলোর খবরে বলা হয়েছে, নতুন অনুমোদন করা পদক্ষেপে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষকে কিছু ধর্মীয় স্থান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অধীনে থাকা প্রশাসনিক এলাকাগুলোতে ইসরায়েলের তদারকি ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই নতুন পদক্ষেপগুলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি একে পশ্চিম তীর দখলে নেওয়ার নামান্তর বলে বর্ণনা করেন।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার তিন দিন আগে এই পদক্ষেপগুলো সামনে এল। প্রেসিডেন্ট আব্বাস ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্রাম্প এর আগে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা নাকচ করে দিলেও তার প্রশাসন ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দ্রুত ইহুদি বসতি স্থাপনের কাজ সীমিত করার কোনো চেষ্টা করেনি।

ফিলিস্তিনিদের দাবি, বসতি স্থাপনের মাধ্যমে তাদের ভূখণ্ড গ্রাস করে নেওয়ার ফলে স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া নেতানিয়াহু যেকোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করেন।

তার ক্ষমতাসীন জোটে এমন অনেক ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সমর্থক সদস্য রয়েছেন, যারা চান ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নিক। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় এই ভূখণ্ড কব্জা করেছিল ইসরায়েল।

২০২৪ সালে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত বাধ্যবাধকতাহীন এক পরামর্শমূলক মতামতে বলেছিল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং বসতি স্থাপন অবৈধ ও তা যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ হওয়া উচিত। তবে ইসরায়েল তা মানতে নারাজ।