ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘আমি এখনো বেঁচে আছি’, আলি শামখানির রহস্যময় টুইট

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ১২:৫৬ এএম
আলি শামখানি। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব অ্যাডমিরাল আলি শামখানির নামে প্রকাশিত একটি টুইট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

শনিবার (২ মার্চ) মার্কিন–ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার নিহত হওয়ার খবর সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রচারের পর ওই টুইটে দাবি করা হয়, তিনি ‘এখনো বেঁচে আছেন’।

টুইটটিতে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করা হয়— ‘আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা তাদের প্রভুর কাছে জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত।’

এতে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি শারীরিকভাবে বেঁচে থাকার কথা বোঝাতে চেয়েছেন, নাকি ‘শহীদ হয়ে আল্লাহর কাছে জীবিত’—এই আধ্যাত্মিক অর্থে বার্তা দিয়েছেন।

এর আগে গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি হামলায় শামখানির নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়েছিল। পরে জানা যায়, তিনি ওই হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ তার নামে থাকা একটি অযাচাইকৃত অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বশেষ বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। সেখানে তার জীবিত থাকার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিশ্লেষকেরা এটিকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেও দেখছেন।

শনিবার তেহরানের একটি স্থানে মার্কিন–ইসরায়েলি বিমান হামলায় শামখানি নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই সময় তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি কাশেমির সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। তবে এ বিষয়ে তথ্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ন শামখানিকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন। তেহরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো জোরদার ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।

শামখানি ইরানের প্রভাবশালী সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে একই কাউন্সিলের সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এদিকে রোববার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।