ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সৌদি আরবে সিআইএ’র কার্যালয়ে ইরানের ড্রোন হামলা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ০৫:০৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থিত সিআইএ স্টেশনকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত আল-উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। তবে অপরটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি তেহরানের। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এ হামলা হয় বলে জানানো হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭০০-র বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ নামে ইরানের প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও সব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রও ওই অভিযানে অংশ নেয় বলে জানানো হয়। সে সময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাত হানার দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই চলতি বছরের নতুন সংকটের ভিত্তি তৈরি করেছে।