সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিক ইরানের সম্ভাব্য হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে ইউরোপ নরকে পতিত হবে।’
ভুসিক যুক্তি দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং এটি সমস্ত দেশকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তেলের দাম আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে উল্লেখ করে ভুসিক বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। প্রণালিতে অবরোধ কেবল জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করবে না, বরং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঠেলে দেবে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি জানিয়েছেন, তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে এবং এটি অতিক্রম করার চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে আক্রমণ করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জাব্বারি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজকে পারাপার করতে দেবে না।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ। আমরা প্রতিটি জাহাজ আক্রমণ করব এবং আগুন ধরিয়ে দেব, যারা পার হওয়ার চেষ্টা করবে। তেলের দাম এরই মধ্যে ৮২ ডলারে পৌঁছেছে এবং বিশ্ব আশা করছে, এটি কমপক্ষে ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। আমরা পাইপলাইনেও আক্রমণ চালাব এবং এক ফোঁটা তেলও এ অঞ্চল থেকে বের হতে দেব না।
উল্লেখ, হরমুজ প্রণালিকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘জগুলার শিরা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যায়।
ওমান ও ইরানের মধ্যে অবস্থিত এই প্রণালি প্রায় ৩৩ কিলোমিটার চওড়া, যা পারস্য উপসাগরের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে খোলা সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের সম্ভাবনা কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

