ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উভয় দেশের নেতারা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার চমৎকার কথোপকথন হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা ১০ দিনের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরু করতে সম্মত হয়েছেন।’
ট্রাম্প দাবি করেন, এটি তার মধ্যস্থতায় থামানো দশম যুদ্ধ।
তিনি আরও জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তারা ‘৩৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো’ বৈঠকে বসেন।
পোস্টে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘বিশ্বজুড়ে ৯টি সংঘাত সমাধান করা আমার জন্য সম্মানের ছিল, আর এটি হবে ১০ম—চলুন, এটিকেও শেষ করি।’
যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি, ১৯৮৩ সালের পর প্রথম অর্থবহ আলোচনার লক্ষ্যে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের বিশ্বাস, উভয় দেশই শান্তি চায় এবং তা দ্রুতই বাস্তবায়িত হতে পারে।
এদিকে, নেতানিয়াহু প্রথমে দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। পরে তিনি বৈরুতের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নেন। তবে গত বুধবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
সূত্র মতে, মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনালাপে আউন এই অবস্থান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রও ‘লেবাননের অবস্থান বোঝে’ বলে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরির লক্ষ্যে ইসরায়েলি সেনারা আরও ভেতরে প্রবেশ করেছে, যা নেতানিয়াহুর মতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

