অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামেজিং ইভির কর্ণধার রসকো জুয়েল। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি দুই মাসে একটি পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করতেন তিনি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। রসকো জুয়েল জানান, সম্প্রতি প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করে আসছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে জুয়েল জানান, ‘এখন ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনা খুব কঠিন হয়ে পড়ছে এবং আমরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ দাম বাড়তেও দেখেছি– কিছু ক্ষেত্রে ২০ শতাংশও।’
যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে ২০২৫ সালের মন্দা অর্থনীতির মধ্যেও বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি/ইলেকট্রিক ভেহিকেল) বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।
চায়না অটোমোটিভ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, আগের মাসের তুলনায় মার্চ মাসে ইভি বিক্রি প্রায় ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, কক্স অটোমোটিভের তথ্য বলছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ৮২,০০০ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ কম হলেও ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি বলে জানা গেছে। ভিয়েতনামের বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড ভিনফাস্ট জানায়, মার্চ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে ।
জ্বালানি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এমবার-এর বিশ্লেষক ইউয়ান গ্রাহাম বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ উদীয়মান বাজারগুলোতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের মতো অতীতের জ্বালানি সংকটের কারণে উৎসাহিত হয়েছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে গ্রাহাম সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা এখন ২০২০-এর দশকের এমন এক সময়ে আছি যেখানে পরপর দুটি জীবাশ্ম জ্বালানি সংকট দেখেছি।’
এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে, যেমন জাপানে গত মাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় অভ্যন্তরীণ ক্রয় ১৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপে, ফ্রান্সে টেসলা গাড়ির নতুন নিবন্ধন তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্কেও এই ইভি ব্র্যান্ডের নতুন নিবন্ধনে অনুরূপ বৃদ্ধি দেখা গেছে।
ফেডারেল চেম্বার অব অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় মার্চ মাসে মোট যানবাহন বিক্রির ১৪.৬ শতাংশ ছিল ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি, যা ২০২৫ সালের একই মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
অস্ট্রেলিয়া কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি প্রধান রপ্তানিকারক দেশ হলেও, দেশটি তার পেট্রোল ও ডিজেলের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করে। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, দেশটির মজুতে প্রায় এক মাসের জ্বালানি রয়েছে এবং মে মাস পর্যন্ত আসন্ন চালান নিশ্চিত করা হয়েছে। তবুও এই খবর দেশটির মানুষকে আতঙ্কিত করছে।

