ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের শীর্ষ নেতা রায়েদ সাদ হত্যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে হামাস। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) হামাস নেতা খলিল আল হায়া ভিডিও বার্তায় বলেন, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অমান্য করে ইসরায়েল গাজায় লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার এক হামলায় রায়েদ সাদ নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে চাপ সৃষ্টি করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে টেলিগ্রামে পোস্ট করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, এই কমান্ডার হামাসের সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছিলেন, যা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের গাজায় চালানো গণহত্যার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইসরায়েলে হামলার অন্যতম স্থপতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে হামাসের একজন সিনিয়র নেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের হত্যাকাণ্ড এটি। এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাদকে এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাকে হামাসের অস্ত্র উৎপাদনকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
গাজার কর্তৃপক্ষের মতে, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রতিদিন গাজায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে– যা প্রায় ৮০০ বার পৌঁছেছে এবং কমপক্ষে ৩৮৬ জনকে হত্যা করেছে– যা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরায়েল এখনো উপত্যকাটিতে বেশির ভাগ সাহায্যবাহী ট্রাকের প্রবেশও বন্ধ করে রেখেছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় একটি প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের প্রতি গাজা উপত্যকায় অবাধ মানবিক প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত করা, জাতিসংঘের স্থাপনাগুলোতে হামলা বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা অর্থাৎ দখলদার শক্তি হিসেবে এর বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলার দাবি জানানো হয়েছে।

-(1)-20251214140749.webp)

