গাঁজাসংক্রান্ত কঠোর ফেডারেল বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারির কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস সূত্র ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যমে এ তথ্য উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে ভাষণ দিতে পারেন ট্রাম্প। তার এ পদক্ষেপ কয়েক দশকের মার্কিন মাদক নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, গাঁজাকে কম বিপজ্জনক মাদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি একটি নির্বাহী আদেশের কথা বিবেচনা করছেন। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে গাঁজা ব্যবসায় বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে এবং এ খাতসংশ্লিষ্ট অপরাধের দণ্ডও কমে আসবে।
বর্তমানে মার্কিন আইন অনুযায়ী, গাঁজা ‘শিডিউল-১’ তালিকার মাদক। হেরোইন বা এলএসডির মতো এ স্তরের মাদকগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে করা হয় এবং এগুলোর কোনো স্বীকৃত চিকিৎসাগুণ নেই বলে ধরা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন গাঁজাকে ‘শিডিউল-৩’ তালিকাভুক্ত করার কথা ভাবছে। এ তালিকার মাদক সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত হলে রাজ্য ও ফেডারেল আইনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে গাঁজা শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকরা বলছেন, গাঁজার বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে তরুণ সমাজে মাদক ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ নিয়ে কংগ্রেস ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্প এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আদেশের ঘোষণা না দিলেও বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন