ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত হতে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের ‘ঘুষ’ দেওয়ার চিন্তা ট্রাম্প প্রশাসনের

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত হতে গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যেক বাসিন্দাকে মোটা অঙ্কের টাকা সাধার কথা ভাবছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আর্কটিকের এই ডেনিশ অঞ্চলটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে ডেনমার্কের সৈন্যরা ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই যুদ্ধে নেমে পড়বে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ডেনমার্কের এমন হুঁশিয়ারির পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের এমন ভাবনার খবর পাওয়া গেল।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের প্রলুব্ধ করতে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ ডলার পর্যন্ত ‘ঘুষ দেওয়ার’ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। বাসিন্দাদের টাকা পাঠিয়ে ডেনমার্কের এই অঞ্চলটি নিজেদের করে নেওয়ার এমন চিন্তাভাবনাতেই বোঝা যাচ্ছে ওয়াশিংটন ৫৭ হাজার জনসংখ্যার দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের দখল পেতে কতটা মরিয়া। যদিও কোপেনহেগেন ও নুকের (গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী) কর্মকর্তারা বারবারই মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

কেবল সরাসরি মোটা অঙ্কের টাকা পাঠানোই নয়, খনিজসমৃদ্ধ দ্বীপটি অধিগ্রহণে হোয়াইট হাউস নানান কৌশল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার মতো বিকল্পও রয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা তুলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পর থেকে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়েই ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। গ্রিনল্যান্ডবাসীরা ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হতে ব্যাপক আগ্রহী হলেও তারা যে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনেও যেতে চায় না তা ইতোমধ্যেই একাধিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে।

ট্রাম্প সামরিক অভিযান চালালে তা মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটেও বড় ধরনের ফাটল তৈরি করবে বলে অনেকে মনে করছেন। ইউরোপের প্রভাবশালী অনেক দেশের নেতারা এর মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ডেনমার্কের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

এসবের মধ্যেই রয়টার্সে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের ঘুষ হিসেবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের ভাবনার খবর এলো। তার আগের দিনই ডেনিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আগ্রাসন চালালে ডেনমার্কের সেনাদের ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ এমন নির্দেশ দেওয়া আছে।

১৯৫২ সালে করা তাদের সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন কমান্ডের নির্দেশ ছাড়াই সেনারা যেকোনো দখলদারদের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারবে।

গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে ট্রাম্প নতুন করে চাপ সৃষ্টির পর এ মন্তব্য আসে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আর্কটিকের দ্বীপটি কব্জায় নিতে যত বিকল্প আছে তার মধ্যে ‘সামরিক বাহিনীকে’ ব্যবহারের বিকল্পও হাতে রয়েছে।