× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিল সরকার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল  কেনার অনুমোদন দিল সরকার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার জুম অ্যাপের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৯তম এবং ২০২৬ সালের ষষ্ঠ সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশের পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, ইরান যুদ্ধের আগে পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো এখনো সেই পরিমাণ করা হয়।

এদিকে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, বিশ^বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। তাই চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জনগণের কথা বিবেচনা করে বর্তমানে দাম বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক, অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাবের আলোকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড থেকে এক লাখ মেট্রিক টন (৫৫%) ইন৫৯০-(১০ পিপিএম) মাত্রার ডিজেল কেনা হবে। এছাড়া, সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন ইন৫৯০ ইউরো ৫ (১০ পিপিএম) মাত্রার ডিজেল কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদে ৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দেশের পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, ইরান যুদ্ধের আগে পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো এখনো সেই পরিমাণ করা হয়।

তিনি বলেন, আগে পাম্পগুলোয় সরবরাহ করা তেল বিক্রি করতে এক-দেড় দিন লাগত, কিন্তু ইরান যুদ্ধের পর হঠাৎ করে তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে; এখন সেই তেল দুই ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, তেলের সরবরাহ আগের মতোই আছে, কিন্তু কালোবাজারিরা এটা মজুত করে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। দেশের ডিসি এবং এসপিরা বিষয়টি মনিটরিং করছেন।

তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ফলে লোডশেডিং নেই। প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, তাই আমি এই সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট দেখলাম। সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে আমাদের আরও পরিকল্পনা আছে। এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামসহ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রকৌশলী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, বিশ^বাজারে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। তাই চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জনগণের কথা বিবেচনা করে বর্তমানে দাম বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই।

জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ নিয়ে আশ^স্ত করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, বিশে^র প্রায় ৮০টি দেশ জ্বালানির দাম বাড়ালেও আমরা সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছি। আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও ঈদের আগে আমরা ২৪ থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত সরবরাহ করেছি। এখন আমরা ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রথম এই ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তবে গত ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা চাই যাদের হক আছে, তারাই যেন এই সুবিধা পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য পাবে না।

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ধর্মগুরুদের সম্মানী চালু হয়েছে। আগামী পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে ১৫৩ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে জ্বালানি সংকটে গতকালও বন্ধ রয়েছে রাজধানীর অনেক ফিলিং স্টেশন। যেগুলোতে তেল আছে সেসব ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। জ্বালানি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন বাস, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা। অনেকেই সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন জ্বালানি পাওয়ার আশায়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!