× UCB Sticker Card
সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রেজাউল করিম খোকন :  অবসরপ্রাপ্ত  ব্যাংকার , কলাম লেখক

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৫৩ এএম

 গ্রিন ফ্যাক্টরি : পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়নে নতুন মাত্রা

রেজাউল করিম খোকন :  অবসরপ্রাপ্ত  ব্যাংকার , কলাম লেখক

প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৫৩ এএম

 গ্রিন ফ্যাক্টরি : পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়নে নতুন মাত্রা

রানা প্লাজা ধস এবং তাজরিন গার্মেন্টসের অগ্নি দুর্ঘটনার পর আমাদের গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথাবার্তা প্রচারিত হয়েছিল। এখন দুর্ঘটনাও কমেছে। গার্মেন্টস খাত নিয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে। অর্জনটিকে ধরে রাখতে হলে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে আরও। বাংলাদেশের তৈরি গার্মেন্টস পণ্য আজ বিশ^দরবারে প্রশংসা অর্জন করছে। প্রায় শতাধিক দেশে বাংলাদেশে প্রস্তত পোশাক সুনামের সঙ্গে রপ্তানি হচ্ছে। কারখানাগুলোতে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সারা বিশে^ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। বাড়বে রপ্তানিও। এর মধ্যে দিয়ে আমাদের গার্মেন্টস খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের যে রূপকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে, তার লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে কর্মপরিবেশ নিরাপত্তায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এতদিন যাবত এমনভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে যে, আমাদের বেশিরভাগ গার্মেন্টস কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ আজ বিশে^র শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা বা গ্রিন ফ্যাক্টরি আমাদের বাংলাদেশে অবস্থিত। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে এক নীরব সবুজ বিপ্লব ঘটেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এর ব্যাপক প্রচার হয়নি এখনো। ফলে, এটার ব্র্যান্ডিং হয়নি তেমনভাবে। বাংলাদেশ বর্তমানে পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএস জিবিসি) সনদপ্রাপ্ত ১০০টি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে ১০টি বিশে^র মধ্যে শীর্ষস্থানীয় বলা যায়।

এ ছাড়া আরও প্রায় ৩০০টি কারখানা ইউএস জিবিসিতে নিবন্ধিত হয়েছে এবং আরও অনেক কারখানা পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরিতে রূপান্তর হওয়ায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। রানা প্লাজা এবং তাজরিন গার্মেন্টসের দুঃখজনক ঘটনাগুলোর পর আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে উদ্যোক্তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। এরপর থেকে আমাদের গার্মেন্টস শিল্প নানা সংস্কার, পরিবর্তন এবং রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণার বিকাশ শুভ সূচনা করেছে। আর্থিক ক্ষেত্রে গ্রিন ব্যাংকিং ধারণার বিকাশ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে যা দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। টেকসই অর্থনীতির জন্য গ্রিন ব্যাংকিং ধারণার অনুসারী হয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে। যার চমৎকার ফলাফল ক্রমেই অর্থনীতিতে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একইভাবে গার্মেন্টস শিল্পে গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণার পরিপূর্ণ বিকাশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবেÑ আমাদের দৃঢ় বিশ^াস। গ্রিন ফ্যাক্টরি কার্যক্রমকে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের ব্যাপারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ক্ষেত্রে চমৎকার গতির সঞ্চার হবে আশা করা যায়।

গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণাটি আমাদের দেশে নতুন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণা আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে ব্যাপকভাবে চালু হওয়ায় গোটা অর্থনীতিতে এর চমৎকার অনুকূল প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমাদের গার্মেন্টস খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের যে রূপকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়নে গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণার দ্রুত বিকাশ সবাইকে আস্থাশীল করে তুলেছে। সাভারে রানা প্লাজা ধস কিংবা তাজরিন গার্মেন্টস এ ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনার পর বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল, এর ফলে ভাটা পড়েছিল এ খাতে। বিদেশি ক্রেতারাও আস্থার সংকটে পড়েছিল। বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প। পরিবেশবান্ধব টেকসই কারখানা বা ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠায় রীতিমতো তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু হয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে। এর মাধ্যমে সারা দেশে একে একে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি। এগুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণাটি আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দিনে দিনে আরও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি। আগামীতে আরও অনেকগুলো গার্মেন্টস কারখানাকে সবুজায়নের আওতায় আনার প্রক্রিয়া জোরেশোরে চলছে।

শ্রমিকবান্ধব গার্মেন্টস কারখানা প্রতিষ্ঠায় মালিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা সুফল বয়ে এনেছে, অর্থনীতিতে নতুন প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে বলা চলে। গার্মেন্টস শিল্পে গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণা নিঃসন্দেহে নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণা দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে  সন্দেহ নেই। সম্পূর্ণ কমপ্লায়েন্ট না হলে নতুন কোনো কারখানাকে বিজিএমইএ থেকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন তাহলো, গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ দরকার। একটি ফ্যাক্টরি করতে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। এর পাশাপাশি জমিও লাগে ৩ থেকে ১০ বিঘা। দেশের এ পর্যন্ত যেসব কারখানা গ্রিন ফ্যাক্টরির খেতাব জিতে নিয়েছে তাদের বেশিরভাগ উদ্যোক্তার বিনিয়োগই ছিল ৫০০ কোটি থেকে ১১০০ কোটি টাকার মধ্যে।

গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, পরিবেশের সুরক্ষা। পরিবেশবান্ধব, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সাশ্রয়ী, স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হলেও গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই চ্যলেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক পরিম-লে অন্যান্য দেশের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে আমাদের গার্মেন্টস খাতকে। অনেক বাধা, বিপত্তি প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আমাদের গার্মেন্টস খাতকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বিশ^ব্যাপী এখন পরিবেশ সুরক্ষার দিকে সবাইকে আলাদা মনোযোগ দিতে হচ্ছে। গার্মেন্টস সামগ্রী ক্রেতা দেশ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, গোষ্ঠী এখন গার্মেন্টস উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব নানা শর্ত আরোপ করছেন। যেসব শর্ত পূরণের মাধ্যমেই কেবল তাদের সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

আর এ জন্য এখন গার্মেন্টস শিল্পে কমপ্লায়েন্সকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। অতীতে এ বিষয়টিকে এক প্রকার অগ্রাহ্য করা হয়েছে। পরিবেশের ওপর গার্মেন্টস শিল্পের আরেকটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো, কারখানার ব্যবহৃত পানি নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ে প্রাবাহিত হয়ে যায়। পোশাক কারখানার এই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ও রং মিশ্রিত পানি নদ-নদী, খাল-বিলের পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। যার ফলে নদ-নদী খাল-বিলের মাছ মারা যাচ্ছে, চাষাবাদে বিঘœ ঘটছে। এতে কৃষি উৎপাদনে প্রতিকূল প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশে প্রায় ৮০০ কারখানা ডাইং ও ফিনিশিং কাজে ৪ হাজার গার্মেন্টস কারখানাকে সহায়তা করে। আইএফসির তথ্যমতে, এসব ডাইং ও ফিনিশিং কারখানার প্রায় সবগুলোই ভূগর্ভস্থ উৎসের পানি ব্যবহার করে।

এসব কারখানা যদি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে পানির ব্যবহার চারভাগের এক ভাগও সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়, তবে তাতে করে কেমিক্যালের ব্যবহারের মাত্রা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ফিনিশিং ও ডাইংয়ের জন্য ফেব্রিকে (কাপড়) তাপ দিতে গ্যাস ব্যবহৃত হয়। এ ক্ষেত্রে যতবেশি পানি থাকে, তা ফুটাতে তাপ প্রয়োগের জন্য বেশি পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। তাই পানির ব্যবহার কমাতে পারলে মহামূল্যবান জ¦ালানি প্রাকৃতিক গ্যাসের ও সাশ্রয় হবে।

গ্রিন ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার জন্য সবার আগে প্রয়োজন সুপরিসর জায়গা। ঘিঞ্জি পরিবেশে সীমিত পরিসরে গ্রিন ফ্যাক্টরি ধারণার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে যে পরিমাণ জমির ওপর কারখানা হবে তার অর্ধেকটাই ছেড়ে দিতে হবে সবুজায়নের জন্য। যেখানে সবুজ বাগান থাকবে। কারখানার চারপাশে খোলা সুপরিসর জায়গা থাকবে। আর কারখানার ভেতরেও থাকবে খোলা জায়গা। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশও হবে সুন্দর। একজন শ্রমিক থেকে আরেকজনের দুরত্ব হবে বেশ। এ ছাড়া সব কিছুই অটোমেশনে সম্পন্ন হবে। সব যন্ত্রপাতি হবে অত্যাধুনিক।

৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবস্থা থাকবে সেখানে। থাকবে সোলার প্যানেল, এলইডি বাতি এ ছাড়া পানি রিসাইক্লিনিং হবে। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী শ্রমিক কর্মচারী-কর্মকর্তারা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। কারখানার ভেতরে আলাদাভাবে তাদের বাসস্থানের সুযোগ থাকবে। শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য থাকবে বিশেষ সুবিধা। চিকিৎসাভাতাসহ রেশনিংয়েরও ব্যবস্থা থাকবে। এ ধরনের কারখানায় শ্রমিকদের জন্য লাইফস্টাইল সেন্টার, শিশুদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার ও খাবারের জন্য ডাইনিং কক্ষ, মসজিদ অথবা নামাজঘর এবং প্রশিক্ষণ ক্লাসের বিশেষ ব্যবস্থা থাকতে হবে। পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার ফলে শতকরা ২৪ শতাংশ জ¦ালানি সাশ্রয় হয়। অন্যদিকে ৫০ শতাংশ পানির অপচয়ও কমে। শিল্পায়ননির্ভর   অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিগত চার দশকে একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পেছনে আমাদের যে যাত্রা তার মূলে রয়েছে শিল্পের অভাবনীয় বিকাশ, বিশেষ করে  শ্রমনির্ভর   ম্যানুফ্যাকচারিং  খাত।

৭০ দশকের শেষের দিকে যাত্রা শুরু করে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে আমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছি। প্রায় ৪.৪ মিলিয়ন মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান এবং পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস এই শিল্পের জিডিপিতে অবদান ১১ শতাংশ। দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অব্যাহত অবদান রাখার পাশাপাশি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, শ্রমিকের ক্ষমতায়ন এবং সবুজ শিল্পায়নেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এই শিল্প। আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান  কিউআইএমএ বাংলাদেশের পোশাক খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এথিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়নেও আমাদের গার্মেন্টস খাত  অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ১৪৩টি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) সার্টিফাইড সবুজ গার্মেন্ট কারখানা রয়েছে এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রথম ১০০টি সবুজ কারখানার মধ্যে ৩৯টি এ দেশে অবস্থিত।

পরিবেশবান্ধব স্থাপনার বিভিন্ন নির্ণায়কের মধ্যে রয়েছেÑ টেকসই নির্মাণ ভূমি, জ্বালানি দক্ষতা, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা, পানি ব্যবহারের দক্ষতা, কর্মবান্ধব পরিবেশ, অভ্যন্তরীণ পরিবেশগত মান, কারখানার অভ্যন্তরে বায়ুর মান, প্রযুক্তির ব্যবহার, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, দুর্ঘটনা মোকাবিলার সক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। একটি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানায় উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে পানি, বিদ্যুৎ, রং এবং বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার পরিবেশবান্ধব উপায়ে হচ্ছে কিনা তা দেখা হয়। অধিকাংশ পোশাকশিল্প কারখানা ইটিপি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গতানুগতিক ইটিপির পরিবর্তে বায়োলজিক্যাল ইটিপি ব্যবহার করছে, যা আমাদের সবুজ বিপ্লবেরই একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। তাই বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করে তুলতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় মনোযোগী হতে হবে।

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে অর্থায়নের পাশাপাশি এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল ও করপোরেট গভর্ন্যান্স (ইএসজি) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে আরও গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের টেকসই ও স্বল্প কার্বনফুট প্রিন্ট সম্পন্ন পোশাকের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বেড়ে চলেছে এবং জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোও পরিবেশবান্ধব পোশাক তৈরির নিত্যনতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে কনজুমারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পন্নোত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বিশ্ব নেতৃত্বে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বিদ্যমান সময়ের প্রেক্ষাপটে শিল্প ও সংশ্নিষ্ট খাতগুলোর উৎপাদন ও শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি ইকোসিস্টেমের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা অতীব প্রয়োজনীয়।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!