আল-আফতাব খান সুইট, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের ওমরগাড়ি এলাকায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি রাস্তার ইট তুলে অন্য একটি নতুন রাস্তা নির্মাণে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি রাস্তা অক্ষত থাকা অবস্থায় তার নির্মাণসামগ্রী খুলে অন্য প্রকল্পে ব্যবহার করা হলে প্রথম প্রকল্পের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই চলাচলের উপযোগী করে রাস্তা সংস্কারেরও দাবি জানান।
বোর্ড ফলক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় কাবিটা/কাবিখা কর্মসূচির অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘ওমরগাড়ি রশীদের বাড়ি থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তা এইচবিবিকরণ ও সংস্কার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দে প্রায় ২৩০ মিটার রাস্তা এইচবিবিকরণ করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একই অর্থবছরে ইউনিয়নের ইসলামের বাড়ি থেকে আলিমুদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ ফুট নতুন রাস্তা এইচবিবিকরণের কাজ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, নতুন রাস্তার কাজে ব্যবহারের জন্য পূর্বে নির্মিত রশীদের বাড়ি থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত রাস্তার প্রায় ২৩০ ফুট অংশের ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে ওই রাস্তা আবারও মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, রোজার ঈদের আগে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে কার্পেটিংয়ের কথা বলে রাস্তার ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়নি। সামনে বর্ষা মৌসুম, তাই তারা নতুন করে দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনসাদ আলী বলেন, এক রাস্তার ইট অন্য রাস্তায় ব্যবহার করায় তাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন দুলু বলেন, যে রাস্তা থেকে ইট তোলা হয়েছে সেখানে শিগগিরই প্রায় ৮০০ মিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ হবে। তাই ইটগুলো অপচয় রোধে অন্য একটি রাস্তায় ব্যবহার করা হয়েছে। এটা কোনো অন্যায় কাজ করেননি।
জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, পুরাতন রাস্তাটি পাকা হওয়ার কথা রয়েছে। এলাকাবাসীর অনুরোধে ইটগুলো নতুন রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা হবে। এক রাস্তার ইট তুলে অন্য রাস্তায় ব্যবহারের কোনো বিধান নেই।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন